হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানের চারটি শর্তে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে থাকবে। এই দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির ফলে ভবিষ্যতে ঢাকায় নতুন কোনো বিমানবন্দর নির্মাণের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা বা সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে ১৫ বছরের জন্য থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, যা বিমানবন্দরের অপারেশনাল ও বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে তুলে দেবে।
- চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর ঢাকায় অন্য কোনো নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ বা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনি বাধা তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামো পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
- থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে জাপানের জাইকা (JICA) অর্থায়ন করেছে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি টাকা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে ন্যস্ত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার জাপানের প্রস্তাবিত চারটি প্রধান শর্তে নীতিগত সম্মতি প্রদান করেছে, যার ফলে আগামী ১৫ বছর টার্মিনালটির পরিচালনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে জাপানি প্রতিষ্ঠানের হাতে। এই চুক্তির ফলে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো এর সময়সীমা ও শর্তাবলি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ১৫ বছরের এই দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির ফলে ঢাকায় নতুন কোনো বিমানবন্দর নির্মাণের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণত এ ধরনের চুক্তিতে 'নন-কম্পিট' বা প্রতিযোগিতামূলক সীমাবদ্ধতার ধারা থাকে, যা ভবিষ্যতে দেশের নিজস্ব সক্ষমতায় নতুন অবকাঠামো তৈরির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিকল্প রানওয়ে বা নতুন বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এই চুক্তির কারণে তা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি দিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালটি দেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। তবে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর ব্যবসায়িক স্বার্থ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাওয়ায় দেশীয় খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ স্থানীয় অপারেটরদের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিবর্তে বিদেশি নির্ভরতা বাড়ানো নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে।
সামগ্রিকভাবে, থার্ড টার্মিনাল দেশের আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিকতার ছোঁয়া আনলেও, দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির শর্তাবলি জাতীয় স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ভবিষ্যতে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনাকে রুদ্ধ করে এই চুক্তি দেশের এভিয়েশন খাতের কৌশলগত স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে পারে। তাই চুক্তির প্রতিটি ধারা জনসমক্ষে প্রকাশ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।