দেশের বাজারে টানা চার দফা কমার পর অবশেষে বাড়ল স্বর্ণের দাম। ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৫৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪২৮ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বাজারেও এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন এই দর কার্যকর হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪২৮ টাকা, যা ১ হাজার ১৫৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
- ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে ১ লাখ ১২ হাজার ১২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯৬ হাজার ১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৮ টাকা, এবং স্বর্ণের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে রূপার দাম।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের বাজারে টানা চার দফা দাম কমার পর এবার বাড়ল স্বর্ণের দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে অন্যতম উচ্চমূল্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই দাম সমন্বয় করেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এর আগে গত কয়েক দফায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকায় দেশের বাজারেও স্বস্তি ফিরেছিল এবং টানা চার দফায় ভরিতে বেশ কিছু টাকা কমেছিল। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক bullion বাজারে চাহিদার কারণে আবারও দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে, যার ফলে খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এ বিষয়ে জানান, সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই জনস্বার্থ ও ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা রক্ষা করে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। ক্রেতারা সাধারণত বিয়ের মৌসুম বা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কিনে থাকেন, ফলে এই দামের পরিবর্তন তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজেটে কিছুটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
স্বর্ণের দাম বাড়ার ফলে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য গহনা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ল। তবে পাকা স্বর্ণ বা বার কিনে যারা বিনিয়োগ করেন, তাদের জন্য এই দাম বাড়া এক ধরনের অর্থনৈতিক সুরক্ষার বার্তা দেয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আগামীতে স্বর্ণের বাজারে এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।