প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় ৫৭ হাজার ৯২৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় ১১টি নতুন ও ২টি সংশোধিত প্রকল্প পাস হয়। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ১৩ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৫৭ হাজার ৯২৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যার মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৪৪ হাজার ৫৭১ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
- প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১১টি সম্পূর্ণ নতুন এবং ২টির সংশোধনী প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে; বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংস্থান করা হবে ১৩ হাজার ৩৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
- বিদ্যুৎ বিভাগের ‘বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন’ প্রকল্পের চতুর্থ সংশোধনীতে ব্যয় ও সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ৯২৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সরকারের উচ্চপদস্থ মন্ত্রী ও সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১১টি সম্পূর্ণ নতুন এবং বাকি ২টি সংশোধিত প্রকল্প।
প্রকল্পের অর্থায়ন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ ৪৪ হাজার ৫৭১ কোটি ৬২ লাখ টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। অবশিষ্ট ১৩ হাজার ৩৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে। এবারের একনেক সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং কৃষি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে বড়পুকুরিয়া থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের সংশোধনীতে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘পিপিবি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বেশ কিছু গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সভায় প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
এই বিশাল অংকের বিনিয়োগ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সহজতর হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।