তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়াতে ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি নতুন কূপ খনন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ বছরে এই কূপগুলো থেকে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ গ্যাস উত্তোলনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও আমদানি নির্ভরতা কমাতেই এই মেগা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের দুই কূপ খনন প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগার ও কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে।
- প্রকল্পটির মাধ্যমে আগামী ১০ বছরে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- নতুন এই কূপ দুটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে, যা শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা মেটাবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের জ্বালানি খাতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন কূপ খননের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা। সম্প্রতি একনেক ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী মহলে অনুমোদিত এই প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি দিকগুলো অত্যন্ত লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)-এর তত্ত্বাবধানে এই কূপ খনন কাজ পরিচালিত হবে। ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা অনুযায়ী, তিতাস ক্ষেত্রের ভূগর্ভস্থ গঠন অত্যন্ত সমৃদ্ধ হওয়ায় এখানে নতুন কূপ খননের সাফল্যের হার খুবই বেশি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, কূপ দুটি থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হলে দেশের সার্বিক জ্বালানি সরবরাহে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৫৯২ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগের বিপরীতে আগামী ১০ বছরে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে। বিশেষ করে গ্যাসের বর্তমান বাজারমূল্য ও চাহিদার কথা বিবেচনা করলে এই বিনিয়োগ অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন তারা।
এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন শুধু জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাসই যুক্ত করবে না, বরং শিল্প কারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সংকট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর পূর্ণ সদ্ব্যবহারে যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়েছে, এই প্রকল্পটি তারই একটি বাস্তব রূপায়ণ।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।