নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার দিনভর উত্তাল ছিল রাজধানী। INDI জোটের প্রধান বিরোধী নেতারা নির্বাচন সদন অভিমুখে মিছিল করলে পুলিশ নীতি আয়োগের সামনে ও আকাশবাণী ভবন চত্বরে তাদের আটকে দেয়। দীর্ঘ আট ঘণ্টা অবস্থান-বিক্ষোভের পর রাহুল গান্ধীসহ আটক সমস্ত বিরোধী নেতাকে রাত দশটার পর মুক্তি দেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার INDI জোটের ব্যানারে নির্বাচন সদন অভিমুখে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও অবস্থান-বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
- মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নীতি আয়োগ ও আকাশবাণী ভবন চত্বরে আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।
- দীর্ঘ আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আকাশবাণী ভবন চত্বরে অবস্থান-বিক্ষোভ চলার পর পুলিশ রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য দলীয় নেতাদের আটক করে কিংসওয়ে ক্যাম্প পুলিশ লাইনে নিয়ে যায় এবং রাত দশটার কিছু পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে দিল্লি পুলিশ। মিছিলটি নীতি আয়োগের অফিসের সামনে পৌঁছালে বিশাল পুলিশ বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে পথ রোধ করে। পুলিশের এই বাধাকে উপেক্ষা করে রাহুল গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন সাংসদ ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েন এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়। পরে সেখান থেকে সরে গিয়ে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আকাশবাণী ভবন চত্বরে অবস্থান নেন এবং টানা আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
দিনভর এই ধস্তাধস্তি ও টানটান উত্তেজনার পর পুলিশ আকাশবাণী ভবন চত্বর থেকে রাহুল গান্ধীসহ আন্দোলনকারী কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাদের জোরপূর্বক আটক করে বাসে করে কিংসওয়ে ক্যাম্প পুলিশ লাইনে নিয়ে যায়। দীর্ঘ আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই নাটকীয় আটকাবস্থার পর রাত ১০টার কিছু পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে বিরোধীদের এই গণআন্দোলন এবং আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে সরব হন। তিনি এক পোস্টে লেখেন, সাধারণ ছাত্র ও সাংবাদিকদের পর এবার বিরোধী দলনেতাকেও আটক করা হলো, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রশাসনের একনায়কসুলভ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং রাজধানীজুড়ে এমন নজিরবিহীন সংঘাত আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে দূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশ এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলো আরও আক্রমণাত্মক কৌশল নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও আটকের ঘটনা সত্ত্বেও বিরোধী জোটের এই সোচ্চার অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনকে যথেষ্ট চাঙ্গা করে তুলেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।