যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারা এবং আকামার মেয়াদ শেষ হওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সোমবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের এন্ট্রি সম্পন্ন হবে। এছাড়া অভিবাসন ব্যয় ৩ লাখ টাকার মধ্যে রাখা এবং বিএমইটি আধুনিকায়নের মাধ্যমে ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া সহজ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আকামার মেয়াদ শেষ হওয়া কর্মীদের জন্য সৌদি আরবে স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রনিক এন্ট্রি সিস্টেমের মাধ্যমে পুনরায় প্রবেশের বিশেষ সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
- অভিবাসন ব্যয় ৩ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী অতিরিক্ত ৭-৮ লাখ টাকা আদায় বন্ধে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
- বিএমইটিতে আধুনিক ভিসা যাচাই পদ্ধতি ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালুর পাশাপাশি রমজানে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে ব্যর্থ এবং আকামার মেয়াদ শেষ হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুনরায় প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পরবর্তীতে সৌদি আরবে পৌঁছালে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের এন্ট্রি সম্পন্ন হবে এবং তারা প্রবেশের বৈধ অনুমতি পাবেন।
সভায় অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, যেখানে ৩ লাখ টাকায় বিদেশে যাওয়া সম্ভব, সেখানে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা নিচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার ও এজেন্সিগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি ব্যবসা হালাল উপায়ে পরিচালনার পরামর্শ দেন। এছাড়া ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সিস্টেম চালুর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার জন্য সৌদি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া জানান, সৌদি আরবে স্থানীয় নাগরিকদের পর বাংলাদেশিরাই বৃহত্তম প্রবাসী জনগোষ্ঠী। তিনি দুই দেশের শ্রমবাজারের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার ও সমৃদ্ধ করার আশ্বাস দেন। সভায় বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা পদ্ধতি সহজীকরণ ও ফি হ্রাসের দাবি জানান। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যা প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে দ্রুত ভূমিকা রাখবে। দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করার মাধ্যমে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে সভায় জানানো হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।