চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় বিদেশ কেন্দ্রের পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করেন। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মোট জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলتی বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বিদেশ কেন্দ্রগুলোতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যেখানে বিদেশের ৮টি কেন্দ্রের ২৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২০৯ জন এবং ফেল করেছেন ২১ জন।
- সারাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মোট জিপিএ ৫ অর্জন করেছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী।
- গত বছরের তুলনায় এ বছর সামগ্রিক পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে এবং জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯ হাজার ১৩ জন হ্রাস পেয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, বিদেশ কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো ফল করেছে।
বিদেশ কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণে জানা যায়, এ বছর বিদেশের ৮টি কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী ছিল মোট ২৩০ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় পাস করেছেন ২০৯ জন এবং ফেল করেছেন ২১ জন। সে হিসেবে বিদেশ কেন্দ্রগুলোতে পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং একটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করার গৌরব অর্জন করেছে। তবে সামগ্রিক দেশের চিত্র ভিন্ন। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। এছাড়া এ বছর সারা দেশে জিপিএ ৫ পেয়েছেন মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী।
ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর শিক্ষাবোর্ডগুলোর ফলাফলে পতন ঘটেছে। গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থী। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে এবং সর্বোচ্চ জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতির কারণে এই পতন ঘটেছে বলে প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারছেন। শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সার্বিক এই ফলাফলের নেতিবাচক প্রভাব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে পড়তে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো ফলাফলের এই পতনের কারণ খতিয়ে দেখে ভবিষ্যতে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।