পোশাক শ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নাশকতায় অর্থায়ন ও উসকানি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শিল্পপতিসহ অন্তত ২০ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত মঙ্গলবার এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগের মাধ্যমে ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪ পরিবারের হিসাব জব্দের ইঙ্গিত দেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে অর্থায়ন ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ অন্তত ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে।
- তালিকায় থাকা অন্য হেভিওয়েট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নসরুল হামিদ বিপু, তাজুল ইসলাম এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদীসহ শীর্ষ শিল্প গ্রুপের মালিকরা।
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এসব হিসাব জব্দের ইমেইল বার্তা পাঠানো হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে উসকানি ও অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন ও জনবল দিয়ে সহায়তার অভিযোগে অন্তত ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ইতোমধ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে এসংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ।
গত মঙ্গলবার এনবিআরের এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, বিশেষ কারণে ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪ পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে। রাজস্ব বোর্ডের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ১২টি শিল্প গ্রুপের মালিকের নাম এসেছে, যারা এই আন্দোলনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করেছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং সুবিধাভোগী শীর্ষ ব্যবসায়ীরা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এনভয় গ্রুপের এমডি ও সাবেক এমপি সালাম মুর্শেদী, রেনেসা গ্রুপের মালিক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এছাড়া তুসুকা গ্রুপের ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারসের জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড হোসেন এবং গিভেন্সি গ্রুপের মাসুমা খাতুন লিপার নামও এই তালিকায় রয়েছে।
তালিকায় আরও যুক্ত হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লা, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল এবং স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী কামাল গাজী ও শুভ। অভিযুক্তদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে ৫ আগস্টের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় কারাবন্দী কিংবা দেশি-বিদেশি পলাতক থাকায় তাদের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।