সাভারের আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মো. জামাল উদ্দিন (৩৯) নামের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের ডিভিশন-৩ এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার ছিলেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ একে আত্মহত্যা বললেও নিহতের পরিবারের দাবি, অপমানের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নিহত মো. জামাল উদ্দিন (৩৯) শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩ এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তার বাড়ি গাজীপুর সদরের বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকায়।
- নিহতের স্ত্রী নাহার ও ভাই ফখরুল হাসানের দাবি, অফিসে যাওয়ার আগে জামাল উদ্দিন তাকে অপমান করার কথা জানিয়েছিলেন এবং এটি আত্মহত্যা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যা।
- শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেনের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে জামাল উদ্দিন নিজেই ছাদে গিয়ে সেফটি দেয়ালের ওপর দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সাভারের আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার শারমিন গ্রুপের বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মো. জামাল উদ্দিন (৩৯) নামের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে সকালে শারমিন গ্রুপের কারখানা ভবন থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদরের বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত মো. সেকেন্দার আলীর ছেলে এবং তিনি শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩ এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে একে ‘আত্মহত্যা’ বলা হলেও নিহতের পরিবার তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। পরিবারের অভিযোগ, অফিসিয়াল আক্রোশের জেরে তাকে অপমান ও হত্যা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। নিহতের স্ত্রী জানান, মঙ্গলবার রাত ও গতকাল সকালে তার স্বামী ফোন করে কারখানায় তাকে অপমান করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশার বিষয়ে শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেন দাবি করেছেন, নিহত জামাল উদ্দিন নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিসে এসেছিলেন এবং সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একা ছাদে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখা গেছে। ওই ফুটেজ ইতোমধ্যে পুলিশ ও সাংবাদিকদের সরবরাহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে প্রাথমিক সুরতহালকারী আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাহিম জানান, ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ার কারণে তার হাত-পা ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়ে থাকতে পারে।
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হওয়া ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই কেবল মৃত্যুর আসল রহস্য এবং এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিতভাবে উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।