আর্থিক সংকটে পড়া ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ শতাংশ সুদে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ গ্যারান্টির বিপরীতে তিন মাসের জন্য এই তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকটির কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পাওনা মিলিয়ে মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকায়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ গ্যারান্টির বিপরীতে ১০ শতাংশ সুদে ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক।
- নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক এই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে, গ্যারান্টির শর্ত অনুযায়ী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে ওই অর্থ পরিশোধ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
- বর্তমানে বিভিন্ন দায় ও ঋণ মিলিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকায়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আর্থিক সংকটে ধুঁকতে থাকা বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংককে রক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ গ্যারান্টির বিপরীতে ১০ শতাংশ সুদে ব্যাংকটিকে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়েছে। তিন মাসের মেয়াদে দেওয়া এই ঋণের অর্থ পরিশোধে ন্যাশনাল ব্যাংক ব্যর্থ হলে, গ্যারান্টির শর্ত অনুযায়ী মাত্র তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে ওই অর্থ পরিশোধ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে এই অর্থায়নে সোনালী ব্যাংকের কোনো ধরনের আর্থিক ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
২০০৯ সালের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগে সিকদার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় একসময়ের শীর্ষস্থানীয় এই ব্যাংকটি। পরবর্তীতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকটির আর্থিক সূচকগুলো চরম দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পর্ষদে পরিবর্তন আনা হলেও বিগত দিনের লুটপাটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি ন্যাশনাল ব্যাংক। ধারাবাহিক লোকসানের মুখে আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়ে ব্যাংকটি গভীর তারল্য সংকটে পড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবের অর্থ উত্তোলন নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ৯৮৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সেই দায়ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বহন করতে হয়েছিল। বর্তমানে সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টিতে এ ধরনের তারল্য সহায়তা তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন ফেরাতে ব্যর্থ হলে সংকট কাটবে না। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ঋণ আদায় ব্যবস্থার উন্নতি না হলে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে এ ধরনের সহায়তা দিয়েও সামগ্রিক ব্যাংক খাতের আস্থা ফেরানো কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।