সুনামগঞ্জে পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনতাই ও হামলার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান সাজ্জাদ প্রিন্সের বাবা-মা, ভাইবোনসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য ও তিন বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার (০১ নভেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক অপ্রাপ্তবয়স্ক বোন বাদে সাতজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট একটি বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
- রবিবার (০১ নভেম্বর) সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক অপ্রাপ্তবয়স্ক বোন সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা বাদে সাত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
- ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সের বিরুদ্ধে নাশকতার দুটি মামলা রয়েছে এবং গত বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টার সময় পুলিশি বাধায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সুনামগঞ্জে পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এক ছাত্রলীগ নেতার পুরো পরিবার ও তার তিন বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। রবিবার (০১ নভেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক প্রাপ্তবয়স্ক সাত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আর অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রিন্সের বোন সাবরিনা চৌধুরী রূপকথাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে পাঠানো হয়। আসামিদের পক্ষে আদালতে কেউ জামিনের আবেদন করেননি।
ঘটনার সূত্রপাত গত গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে, যখন শহরের নতুনপাড়া এলাকা থেকে নাশকতার দুটি মামলার আসামি ও ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান সাজ্জাদ প্রিন্সকে আটক করে পুলিশ। থানায় নেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর অসুস্থতা বোধ করায় তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালের ভেতরেই পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন প্রিন্স। এ সময় তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে শনিবার রাতে হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে প্রিন্সের বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী, মা, ভাইবোন এবং তিন বন্ধুসহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত তিন বন্ধু হলেন তাকবির রহমান তানহির (২০), কাওসার আহমদ সোহাগ (২১) ও ইফাত আলম রাবিদ (২১)।
এদিকে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো বলে দাবি করেছেন প্রিন্সের বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী। তার ভাষ্যমতে, সুস্থ ছেলেকে থানায় নিয়ে মারধর করায় তিনি ও তার স্ত্রী হাসপাতালে ছুটে যান এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের কেবল বাগবিতণ্ডা হয়েছিল। পুলিশ প্রিন্সকে তাদের জিম্মায় দিয়ে চলে যাওয়ার পরও মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হাসপাতাল থেকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।