বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী নভেম্বর মাসে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র ‘যাপিত জীবন’। প্রখ্যাত অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেনের পরিচালনায় এটি তার প্রথম সিনেমা, যেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার মেয়ে ঐশী হোসেন। শুটিং শুরুর দীর্ঘ চার বছর পর ছবিটি বড় পর্দায় আসছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রখ্যাত অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেনের পরিচালনায় নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘যাপিত জীবন’ আগামী নভেম্বর মাসে মুক্তি পাচ্ছে।
- চলচ্চিত্রটিতে প্রধান একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নির্মাতার নিজের মেয়ে ঐশী হোসেন, যা বাবার পরিচালনায় তার প্রথম কাজ।
- কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সুপরিচিত উপন্যাস অবলম্বনে এবং সরকারি অনুদানে নির্মিত এই সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়েছিল প্রায় চার বছর আগে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষা ও প্রস্তুতি শেষে অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘যাপিত জীবন’। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের একই নামের ধ্রুপদী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিটি আগামী নভেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন সিনেমা হলে মুক্তি পাবে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি অনুদানে নির্মিত এই প্রজেক্টটি নিয়ে ঢালিউড পাড়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ছিল দর্শকদের ব্যাপক কৌতূহল।
এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ অভিনয় জীবনের পর প্রথমবার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করলেন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ আফজাল হোসেন। অভিনয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ছাপ তার পরিচালনায় কতটা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা। বিশেষ আকর্ষন হিসেবে এই সিনেমায় আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় প্রথমবার বড় পর্দায় অভিনয় করেছেন তার মেয়ে ঐশী হোসেন। বাবা-মেয়ের এই নতুন রসায়ন সিনেমাটিকে ভিন্ন মাত্রা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও তার পূর্ববর্তী বাঙালি জীবনের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আবর্তিত হয়েছে ‘যাপিত জীবন’-এর কাহিনী। উপন্যাসের মূল চেতনা ও আবেগকে পর্দায় যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে এর চিত্রনাট্য এবং শিল্প নির্দেশনায় বেশ যত্ন নেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক পটভূমির গল্প হওয়ায় এর সেট নির্মাণ ও পোশাক পরিকল্পনাতেও রাখা হয়েছে মুন্সিয়ানা। নির্মাতাদের আশা, বর্তমান প্রজন্মের দর্শকদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের আগের বাংলাদেশের ইতিহাস ও জীবন সংগ্রাম তুলে ধরতে এই সিনেমাটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
নভেম্বরে সিনেমাটি মুক্তির মধ্য দিয়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রে একটি মানসম্মত সাহিত্যনির্ভর কাজ যুক্ত হতে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে যখন দর্শক ভিন্নধারার ও মৌলিক গল্পের ছবির প্রতি ঝুঁকছেন, তখন ‘যাপিত জীবন’ বক্স অফিসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এটি দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে একটি নতুন নান্দনিক ধারা তৈরিতেও সহায়ক হবে বলে বিশ্বাস শিল্প সংশ্লিষ্টদের।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।