রাজ্যে সাংগঠনিক বিস্তার ঘটাতে এবং নতুন মানচিত্রের রূপরেখা তৈরি করতে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। বাংলায় সঙ্ঘের শাখা ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য এবং তিনটি ‘প্রান্ত’ ভেঙে ৫টি সাংগঠনিক অঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে মধ্যবঙ্গসহ তিন প্রান্তের কার্যকর্তাদের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সাংগঠনিক কাঠামোকে পুনর্গঠিত করে তিনটি 'প্রান্ত' (উত্তরবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ) থেকে বাড়িয়ে উত্তরবঙ্গ, নবদ্বীপ, বর্ধমান, মেদিনীপুর এবং কলকাতা—এই ৫টি বড় সাংগঠনিক অঞ্চলে বিভক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
- চলতি বছরের মে মাসে বাংলায় সঙ্ঘের শাখা সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ হাজার, যা আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে দ্বিগুণ অর্থাৎ ১০ হাজারে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেশজুড়ে জনসংযোগ ও শাখা বৃদ্ধির কর্মসূচি চলছে।
- বৃহস্পতিবার রাতে বর্ধমানের উল্লাস উপনগরীতে সঙ্ঘের মধ্যপ্রান্তের কার্যালয়ে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের সঙ্গে দেখা করেন এবং সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাংগঠনিক শক্তি ও পরিধি বাড়াতে নতুন ছকে সাজানো হচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) বঙ্গ-সংগঠন মানচিত্র। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বর্ধমান। গত বৃহস্পতিবার বর্ধমানের উল্লাস এলাকায় সঙ্ঘের কার্যালয়ে উপস্থিত হন সঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। এতদিন বাংলায় উত্তরবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ—এই তিনটি ‘প্রান্ত’ বা অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে সঙ্ঘের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তবে নতুন প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বাংলাকে উত্তরবঙ্গ, নবদ্বীপ, বর্ধমান, মেদিনীপুর এবং কলকাতা—এই পাঁচটি বড় সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বর্ধমানকে কেন্দ্র করেই এই বৃহৎ কাঠামোর রূপরেখা এবং প্রশাসনিক দিকগুলো পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সাংগঠনিক সম্প্রসারণের নেপথ্যে রয়েছে সঙ্ঘের উচ্চাভিলাষী শাখা বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা। চলতি বছরের মে মাসে রাজ্যে সঙ্ঘের শাখার সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ হাজার। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ অর্থাৎ ১০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ জনসংযোগ ও সংগঠন বৃদ্ধির কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বর্ধমানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মধ্যবঙ্গের পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। বিশেষ করে দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদের একাংশের কার্যকর্তাদের উপস্থিতি এই বৈঠককে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। কাটোয়া ও আসানসোল শিল্পাঞ্চলেও শাখা সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
শাখা ও সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সঙ্ঘের অন্দরে সমন্বয় সাধনের বিষয়টিও এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিজেপি, বিএমএস এবং এবিভিপি-র মতো সঙ্ঘ পরিবারের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে কাজের সমন্বয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আসা নতুন কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা নিরসনে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। গত এক বছরে ‘প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্পর্ক’ কর্মসূচির পাশাপাশি রাজ্যে আটশোর বেশি যুব সম্মেলন এবং একাধিক হিন্দু সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এই বর্ধিত জনসমর্থনকে নিয়মিত সাংগঠনিক শক্তিতে রূপান্তর করাই এখন সঙ্ঘের প্রধান লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক অতীতে প্রকাশ্য রাজনৈতিক সভা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও এবারের মোহন ভাগবতের বর্ধমান সফর সম্পূর্ণভাবে সাংগঠনিক পর্যালোচনানির্ভর। বর্ধমানের এই বৈঠক থেকেই আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে সঙ্ঘের নতুন সাংগঠনিক মানচিত্রের ভবিষ্যৎ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের রূপরেখা নির্ধারিত হতে চলেছে। শাখা দ্বিগুণ করার এই মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে সঙ্ঘ পরিবারের উপস্থিতি আরও দৃঢ় হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।