গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রেমিকাকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হত্যার অভিযোগে শান্ত পাল নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে কোচিংয়ের কথা বলে এসে সফিপুরের ভাড়া বাসায় দিনভর নির্যাতনের শিকার হন ওই তরুণী। নিহতের বাবা মনি বনিক বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সফিপুরের একটি ভাড়া বাসায় শান্ত পাল কর্তৃক তিন বছরের প্রেমিকা তরুণীকে দিনভর দফায় দফায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
- অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
- নিহতের বাবা মনি বনিক বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক তরুণীকে বাসায় ডেকে এনে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত শান্ত পাল (২৪) কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল পালপাড়া গ্রামের সুনিল চন্দ্র পালের ছেলে এবং সে সফিপুরের একটি ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করত। গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এ মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশ পায় এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকালে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন ওই তরুণী। দীর্ঘ তিন বছর ধরে বড় ভাইয়ের শ্যালিকার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল শান্ত পালের। এই সম্পর্কের সুবাদে ওই তরুণীকে সফিপুরের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় শান্ত এবং সেখানে তাকে দিনভর দফায় দফায় ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তরুণী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর প্রেমিক শান্ত নিজে মোবাইল ফোনে তরুণীর মৃত্যুর সংবাদ তার পরিবারকে জানায় এবং রাতেই মরদেহ নিয়ে ভালুকায় নিজ গ্রামে যায়। নিহতের স্বজনদের সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয় এবং পরে মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় জনতা ওই যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এসে আদালতে প্রেরণ করে।
কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শান্ত পালকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, এবং নারী নির্যাতন ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।