ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার তাদের নিট মুনাফায় ৮৪৮ শতাংশ অভূতপূর্ব উল্লম্ফন অর্জন করেছে, যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৯৪ কোটি রুপি। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত বিতর্কিত ও অসম বিদ্যুৎ চুক্তির কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তৈরি হওয়া তীব্র চাপ এবং দেশের জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের বিতর্কের মধ্যেই এই বিশাল মুনাফা অর্জিত হলো।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ভারতের শীর্ষ বিদ্যুৎ কোম্পানি আদানি পাওয়ারের নিট মুনাফা ৮৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬ হাজার ৫৯৪ কোটি রুপিতে উন্নীত হয়েছে।
- বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সাথে সম্পাদিত পূর্বের বিতর্কিত ও অসম চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিশাল অংকের আর্থিক সুবিধা লাভ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
- বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকারের আমলের স্বজনপ্রীতি ও অগ্রহণযোগ্য চুক্তির ফলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি গৌতম আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি 'আদানি পাওয়ার' তাদের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে অভাবনীয় সাফল্যের ঘোষণা দিয়েছে। কোম্পানিটির নিট মুনাফা ৮৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ৬ হাজার ৫৯৪ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। মূলত উচ্চ চাহিদা, দেশের ভেতরে বিদ্যুৎ বিক্রির প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নানা চুক্তির ফলে এই বিশাল মুনাফা অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই অর্থনৈতিক সাফল্যের পেছনে বাংলাদেশের সঙ্গে করা বিতর্কিত বিদ্যুৎ চুক্তির একটি বড় ভূমিকা রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে তীব্র আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির শর্তাবলী অত্যন্ত অসম এবং বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী ছিল বলে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বাজার দরের চেয়ে কয়লার দাম অনেক বেশি ধরা এবং ক্যাপাসিটি চার্জের নামে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা বারবার উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের একপাক্ষিক ও অদৃশ্য শক্তির মদদপুষ্ট চুক্তি দেশের পুরো জ্বালানি খাতকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে। বাংলাদেশে বিদ্যুত খাতে প্রতি বছর অতিরিক্ত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হওয়ার পেছনে আদানি চুক্তির মতো বেশ কিছু অসম চুক্তি সরাসরি দায়ী। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এসব চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা সংশোধনের জোরালো দাবি উঠলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন এখনো লক্ষ্য করা যায়নি।
আদানি পাওয়ারের এই আকাশচুম্বী মুনাফা এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের চরম আর্থিক সংকটের বৈপরীত্য দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অর্থনীতিকে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে এই ধরনের অসম চুক্তিগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনে সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার ওপর জোর দিচ্ছেন দেশের জ্বালানি ও অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।