কলকাতার বেহালার সরশুনায় প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে তরুণ ও তাঁর বাবাকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় ঘোরানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রেমে আপত্তির জেরে ৭ জনের একটি দল তাঁদের ঘরে বন্দি করে বেধড়ক মারধর করে এবং ভিডিও ধারণ করে। পুলিশ এ ঘটনায় নাবালিকার বাবা, মামা ও ভিডিও ভাইরালকারী শঙ্কর সাউসহ চারজনকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কলকাতার বেহালার সরশুনায় প্রেমিকার পরিবারের পক্ষ থেকে তরুণ ও তাঁর বাবার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে বিবস্ত্র করে রাস্তায় ঘোরানোর ঘটনা ঘটে।
- পুলিশ এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নাবালিকার বাবা, মামা এবং ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে শঙ্কর সাউসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
- মঙ্গলবার ধৃতদের কোমড়ে দড়ি বেঁধে ও খালি গায়ে এলাকায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে সরশুনা থানা পুলিশ, আর ভুক্তভোগী পরিবার কঠোর বিচার দাবি করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের কলকাতার বেহালার সরশুনা এলাকায় প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে এক তরুণ ও তাঁর বাবার ওপর বর্বর নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রেমিকার পরিবারের আপত্তি থাকায় এবং সম্পর্কের জেরে তরুণ ও তাঁর বাবাকে ঘরে বন্দি করে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তাঁদের বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর মতো অমানবিক ঘটনা ঘটানো হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে।
তদন্তে নেমে সরশুনা থানা পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রথমে নাবালিকার বাবা, মা ও মামাকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে শঙ্কর সাউ নামক আরেক স্থানীয় বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক দাবি, এই শঙ্কর সাউ-ই ভুক্তভোগীদের বিবস্ত্র করে হাঁটার আপত্তিকর ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন এবং তা ইন্টারনেটে ভাইরাল করেছিলেন। পুলিশি জেরায় ও তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে ধৃতদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়।
পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশ ধৃতদের খালি গায়ে ও কোমড়ে দড়ি পরিয়ে অপরাধের এলাকায় হাঁটায়, যা দেখতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ভিড় জ জমায়। ভুক্তভোগী তরুণ ও তাঁর বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার দিন তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং সাতজনের একটি দল তাঁদের ওপর চড়াও হয়। পকসো আইনে ফাঁসিয়ে দেওয়ার মিথ্যা হুমকি দিয়ে তাদের দীর্ঘক্ষণ নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চরম সামাজিক লাঞ্ছনা ও ট্রমার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ভাইরাল করার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা এবং এই পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ইন্ধন ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সমাজবিজ্ঞান ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের বর্বরোচিত আচরণ আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।