বেক্সিমকো গ্রুপের দুটি খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা সচল রাখতে বিশেষ আর্থিক সুবিধা ও ছাড় দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শাইনপুকুর সিরামিকসসহ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ঋণসীমা নবায়ন এবং খেলাপি হওয়া এড়াতে এই নমনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বড় অঙ্কের ঋণ পুনঃতফসিল ও বিশেষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সচল রাখার সুযোগ তৈরি হলো।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেক্সিমকো গ্রুপের শাইনপুকুর সিরামিকসসহ দুটি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ আর্থিক ছাড় ও ঋণসীমা নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
- দীর্ঘদিন ধরে ঋণ খেলাপি হওয়া এবং ব্যাংক খাতের চলমান তারল্য সংকটের মধ্যেই এই শীর্ষ শিল্প গ্রুপকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হলো।
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনে গতি আসার সম্ভাবনা থাকলেও ব্যাংকিং খাতের সুশাসন ও খেলাপি ঋণ আদায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে অর্থনীতিবিদরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প গ্রুপ বেক্সিমকোর দুটি খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা সচল রাখার অজুহাতে বিশেষ ছাড় দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি প্রকাশিত এই নির্দেশনায় শাইনপুকুর সিরামিকসসহ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ঋণসীমা নবায়ন এবং খেলাপি ঋণের শর্ত শিথিল করার নজিরবিহীন সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তীব্র আর্থিক সংকট ও ব্যাংক খাতের কড়াকড়ির মধ্যেও গ্রুপটি বিশেষ সুবিধায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আইনি ভিত্তি পেল।
গত কয়েক মাস ধরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ উদ্ধারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়ন করছে, ঠিক সেই সময়ে বেক্সিমকোর এই দুই প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাধারণ নিয়ম ও কঠোর প্রভিশনিং বা সঞ্চিতি সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থেকে কিছুটা ছাড় পেয়ে কোম্পানিগুলো তাদের ঋণ নিয়মিত বা নবায়ন করতে পারবে, যা সাধারণ গ্রাহক বা অন্যান্য মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে বিরল।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বৃহৎ শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষার যুক্তিতে এই ধরনের বিশেষ ছাড় দেওয়া হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে ঋণখেলাপি সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করতে পারে। অতীতেও প্রভাবশালী শিল্প গ্রুপগুলোকে এ ধরনের পলিসি সাপোর্ট দেওয়ার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্স শিটে খেলাপি ঋণের পাহাড় জমেছে, যা সার্বিক অর্থনীতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
এই বিশেষ সুবিধার ফলে বেক্সিমকোভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সাময়িকভাবে গতিশীল হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এটি ব্যাংক খাতের সুশাসন এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করল। সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের নীতিমালার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।