ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুর, সাভারের আশুলিয়া ও ঢাকার মিরপুরে পোশাকশ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে, যার ফলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পোশাক শ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা এবং ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করেন।
- বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তিন ঘণ্টা তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অন্তত ৪৫টি কারখানা আজকের মতো ছুটি ঘোষণা করা হয়।
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং আশুলিয়া এলাকা থেকে বেশ কিছু হাতবোমা উদ্ধার করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার সুনির্দিষ্ট দাবিতে গাজীপুর, আশুলিয়া ও রাজধানীর মিরপুরে সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকেরা। গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত বিস্তৃত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক টানা তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকায় সর্বসাধারণ ও পরিবহন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শ্রমিকদের এই হঠাৎ আকস্মিক আন্দোলনে শিল্পাঞ্চলজুড়ে চরম অসন্তোষ ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।
গত কয়েক দিন ধরে পোশাক খাতের শ্রমিকেরা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ফলপ্রসূ কোনো সুরাহা না হওয়ায় গতকাল সকাল থেকে শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন এবং কারখানার বাইরে নেমে আসেন। একপর্যায়ে গাজীপুর ও আশুলিয়ার প্রায় ৪৫টি পোশাক কারখানায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপে বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশুলিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কয়েকটি হাতবোমা উদ্ধার করে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তোলে।
এই লাগাতার বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ফলে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই খাতের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ, বিজিএমইএ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি যৌক্তিক সমাধান না আসলে রপ্তানি বাণিজ্যে এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।