জাপান সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে 'বিগ-বি' বা বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ ইনিশিয়েটিভকে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করতে যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন। কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চল কেন্দ্রিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে যুক্ত করে আঞ্চলিক বাণিজ্য হাব গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ২০১৪ সালের মে মাসে প্রথম 'বিগ-বি' (Bay of Bengal Industrial Growth Initiative) ধারণাটি সামনে এনেছিলেন, যা বর্তমানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও মহেশখালী অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপান স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম ও গবেষক ড. গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, বঙ্গোপসাগর ঘিরে এই বিশাল অর্থনৈতিক জোনে জাপান ও ভারতের বাজার ও বিনিয়োগ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
- ২০২৫ সালের এপ্রিলে মাতারবাড়ী বন্দর নির্মাণ ও এর সাথে জাতীয় মহাসড়কের সংযোগ ঘটাতে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ জাইকার সহায়তায় বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্প এগিয়ে চলেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
'বিগ-বি' মূলত জাপানের একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক উদ্যোগ, যার মূল ভিত্তি তিনটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত—গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা। ২০১৪ সালের মে মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময় দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এই ধারণা প্রথম উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে জাইকার মাধ্যমে মাতারবাড়ী বন্দর নির্মাণ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ শুরু হয়। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে মাতারবাড়ী বন্দরকে জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করতে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক এবং চট্টগ্রাম থেকে চকরিয়া পর্যন্ত মহাসড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেবল বাংলাদেশ নয়, বরং ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানকে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারের আওতায় আনার কৌশল রয়েছে জাপানের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপান স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং গবেষক ড. গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, বঙ্গোপসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর কেন্দ্রিক এই ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় জাপানের প্রধান লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলকে একটি শক্তিশালী বাণিজ্য হাব হিসেবে গড়ে তোলা এবং বহুপক্ষীয় অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনা।
বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, এই মেগা প্রকল্পের সুফল পেতে সরকারকে পরিবেশগত বিষয়, জ্বালানি খাতের টেকসই ব্যবহার এবং কোন ধরনের শিল্প বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হবে তা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বর্তমান সরকারের এই উচ্চাভিলাষী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।