ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের মুখে সোমবার ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের কয়েকশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মিরপুর ও আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, এই অস্থিরতার পেছনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী শিল্পমালিক ও সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের ইন্ধন রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রোববার ও সোমবারের সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অন্তত ৫টি মামলা দায়ের করেছে এবং ২৯ জনকে আটক করেছে।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার সকালে সচিবালয়ে পোশাক কারখানা মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সাথে জরুরি বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা।
- বিক্ষোভের জেরে ঢাকা ও গাজীপুর অঞ্চলের অন্তত দেড়শ পোশাক কারখানায় সোমবার ‘অনিবার্য কারণবশত’ একদিনের ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ন্যূনতম মজুরির দাবিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সোমবারও ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার কয়েকশ পোশাক কারখানায় সোমবার আকস্মিক ছুটি ঘোষণা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং বিভিন্ন কারখানার গেটে ছুটির নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হলেও শ্রমিকদের অসন্তোষ পুরোপুরি থামানো সম্ভব হয়নি।
সোমবার সকালে মিরপুর-১০, পল্লবী, কাফরুল, আশুলিয়া এবং গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভের চেষ্টা চালান। মিরপুরে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধের ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ, শিল্প পুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর যৌথ পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং বেশ কয়েকটি স্থানে যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার রাতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে জরুরি বৈঠক করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীবর্গ। এরপর সোমবার সকালে সচিবালয়ে পোশাক কারখানা মালিকদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান শ্রম অসন্তোষের নেপথ্যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু সাবেক এমপি-মন্ত্রী ও প্রভাবশালী শিল্পমালিকের সুনির্দিষ্ট ইন্ধন ও চক্রান্ত রয়েছে।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ইতোমধ্যে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িত সন্দেহে অন্তত ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। সরকার শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তৈরি হওয়া আস্থার সংকট কেটে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।