বিপুল পরিমাণ সামরিক বাজেট ও অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মুখে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় দফায় দফায় প্রাসাদ ও অবস্থান পরিবর্তন করছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূরাজনৈতিক সংকটে সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সৌদি আরব জিডিপির একটি বিরাট অংশ সামরিক খাতে ব্যয় করা সত্ত্বেও ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল প্রযুক্তির হুথি হামলা কার্যকরভাবে প্রতিহত করতে পারছে না।
- চলমান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও হুথি আগ্রাসন মোকাবিলায় ইসরাইলের পক্ষ থেকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে সতর্কতা বজায় রাখছে রিয়াদ।
- বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সামরিক বাজেটধারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা পাচ্ছে না সৌদি আরব।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সামরিক বাজেটধারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা পাচ্ছে না সৌদি আরব। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এই নিরাপত্তা দুর্বলতা। বিশেষ করে তেল শোধনাগার এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে হুথিদের একের পর এক সফল আঘাত রিয়াদের সামরিক কৌশলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
গত কয়েক বছর ধরে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সৌদি জোট সামরিক অভিযান পরিচালনা করলেও হুথিদের আসুসমিতিক বা গেরিলা আক্রমণ পদ্ধতি প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো থেকে শত শত কোটি ডলারের অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম এবং রাডার প্রযুক্তি কেনা সত্ত্বেও কম খরচে তৈরি ড্রোন ও কমব্যাট মিসাইলগুলোর ধ্বংসলীলা সম্পূর্ণরূপে রোধ করা সম্ভব হয়নি। এই সামরিক সীমাবদ্ধতা সৌদি আরবের আঞ্চলিক আধিপত্যের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
নিরাপত্তা চরম মাত্রায় বিঘ্নিত হওয়ায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কঠোর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দফায় দফায় প্রাসাদ ও বাসভবন বদল করতে হচ্ছে। গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে তার চলাফেরা ও দাপ্তরিক রুটিনে আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সমীকরণে ইসরাইলের পক্ষ থেকে হুথি হুমকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, ফিলিস্তিন ইস্যু ও আরব বিশ্বের রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এই সামরিক ও নিরাপত্তার ঘাটতি কেবল সৌদি অর্থনীতি বা তেল উৎপাদনের ওপরই প্রভাব ফেলছে না, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক ভূরাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল অস্ত্র আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং গোয়েন্দা সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি না করলে এই ধরনের asymmetric warfare বা অপ্রথাগত যুদ্ধ থেকে স্থায়ী নিরাপত্তা অর্জন করা সৌদি আরবের জন্য দুরূহ হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।