অরিত্রিক ভট্টাচার্যের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হলেও বঙ্গোপসাগরে নতুন করে আরেকটি নিম্নচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্দামান সাগরের ঘূর্ণাবর্ত থেকে এটি শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এর ফলে আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আন্দামান সাগরের ঘূর্ণাবর্ত থেকে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ তৈরি হয়ে তা উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
- উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলায় ৩০ অক্টোবর থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
- দক্ষিণবঙ্গে ৩০ অক্টোবর থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা বহাল রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' ছত্তীসগঢ়ে এসে নিছক নিম্নচাপে পরিণত হয়ে শক্তি হারালেও, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসত মিলছে না। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে জন্ম নিতে চলেছে আরও একটি নতুন নিম্নচাপ। আন্দামান সাগরের ওপর অবস্থানরত একটি ঘূর্ণাবর্ত থেকে এই নিম্নচাপের সৃষ্টি হচ্ছে, যা পরবর্তীতে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তি বৃদ্ধি করে গভীর নিম্নচাপে রূপ নেবে। ভারতের মৌসম ভবনের প্রাথমিক পূর্বাভাস বলছে, এই সিস্টেমটির সম্ভাব্য অভিমুখ হতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল।
এদিকে এই নতুন নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলার আবহাওয়াতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা কমতে শুরু করবে। ৩০ অক্টোবর থেকে বিক্ষিপ্তভাবে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে ৩১ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ এলাকাই মূলত শুষ্ক আবহাওয়ার মুখোমুখি হবে।
অন্যদিকে, দুর্যোগের প্রধান ধাক্কা সামলাতে প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে উত্তরবঙ্গকে। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাশাপাশি কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারেও ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতার সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
চলতি মৌসুমে একের পর এক নিম্নচাপ এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ঘনঘটায় জনজীবন ও কৃষিকাজে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দীপাবলির আগে এই নতুন দুর্যোগের পূর্বাভাসে উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরবর্তী আপডেট অনুযায়ী মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।