ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানালেও বিরোধী দলগুলো তা প্রত্যাখ্যানের পথে রয়েছে। ট্রাম্পের অনুরোধ সত্ত্বেও সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাদি আইজেনকোট নেতানিয়াহুর সরকারে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ক্ষমতার অংশীদারিত্ব এবং দুই বছর মেয়াদী ক্ষমতার ভাগাভাগির প্রস্তাব নিয়ে আজ বিরোধীরা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন। রাজনৈতিক এই অচলাবস্থা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র সংকট তৈরি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ সত্ত্বেও সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী নেতা গ্যাদি আইজেনকোট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারে যোগ দিচ্ছেন না।
- নেতানিয়াহু সরকারে প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজে দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব বা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছেন আইজেনকোটকে।
- ইসরায়েলের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফলের প্রেক্ষাপটে বিরোধীরা আজ একটি জরুরি বৈঠকে বসে নেতানিয়াহুর প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির রাজনৈতিক সংকট নিরসনে একটি বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণের মুখে এই প্রস্তাব দেন তিনি। তবে তার এই আহ্বানে সাড়া দেওয়া নিয়ে বিরোধী শিবিরজুড়ে তীব্র অনৈক্য ও সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ক্ষমতার অংশীদারিত্বের ধরন নিয়ে নেতানিয়াহুর প্রস্তাব বিরোধীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারের প্রথম দুই বছর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন এবং পরবর্তী মেয়াদে ক্ষমতার ভাগ পাবেন বিরোধী নেতা গ্যাদি আইজেনকোট। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি অনুরোধ থাকা সত্ত্বেও আইজেনকোট এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান প্রশাসনের নীতি এবং কাঠামোর অধীনে কোনো জোটে তারা যাবেন না।
ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই দেশটির রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আরব দলগুলোর 'কিং মেকার' হয়ে ওঠার সম্ভাবনা এবং সরকারের ভেতরের রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে নেতানিয়াহুর অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় বিরোধী দলগুলোর আজকের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধীরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে নেতানিয়াহুর প্রস্তাব পুরোপুরি বর্জন করে, তবে দেশটিতে নতুন করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যা বর্তমান যুদ্ধপরিস্থিতির মধ্যে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।