আজ থেকে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম। দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি আট হাজার এবং চার যাত্রীধারীর জন্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় গাড়িগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরের আয়ুষ্কাল, জোড়ভিত্তিক রঙ এবং বুয়েটের নকশা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে এই উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং এক বছর পর নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং এক বছর পর নবায়ন ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- বুয়েটের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি করতে হবে এবং ঢাকায় চলাচলের জন্য আটটি নির্দিষ্ট জোন ও আলাদা রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশে যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা ফেরাতে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং এক বছর পর ফিটনেস পরীক্ষা শেষে নবায়ন ফি চার হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং এক বছর পর নবায়ন ফি রাখা হয়েছে ৫০০ টাকা। এছাড়া কিউআর কোডযুক্ত ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর চলাচল করতে পারবে এবং প্রতিটি গাড়ি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি করতে হবে। উৎপাদন তদারকি ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের সুপারিশের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ, বুয়েট, সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানের চলাচলকারী রিকশাগুলোকেও অনুমোদিত নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তন করতে হবে।
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের অংশ হিসেবে ই-রিকশা চলাচলের জন্য রাজধানীতে আটটি জোন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটিতে চারটি করে জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার নির্দিষ্ট রঙ থাকবে এবং এক জোনের গাড়ি অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। এছাড়া অবৈধ চার্জিং রোধে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং ব্যাটারি ভাঙা বা গলানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, গতিসীমা লঙ্ঘন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। তবে চালকদের বিপুল আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিধানটি আপাতত শিথিল রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।