মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৭৯ রান তুলে ১০৬ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান করে স্বাগতিকরা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪৫ রানে অলআউট হয়। ২৭ রানের লিড পাওয়ার পর ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। আলোকস্বল্পতার কারণে তৃতীয় দিনের খেলা আগেভাগে শেষ হয়, যেখানে জাকের ও নাঈম ১৮ রানে অপরাজিত আছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান করার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে অলআউট করে ২৭ রানের লিড পায় এবং তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে মোট ১০৬ রানের লিড সংগ্রহ করে।
- অফস্পিনার নাঈম হাসান ১০.৫ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন এবং বাংলাদেশের দ্রুততম স্পিনার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
- দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দলীয় ৫৩ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেললেও, দিন শেষে জাকের আলী ১৮ ও নাঈম হাসান ১৮ রানে অপরাজিত থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিনে দারুণ রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান সংগ্রহ করেছে। এর ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্বাগতিকদের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রান। আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই তৃতীয় দিনের খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। ক্রিজে তখন জাকের আলী ১৮ এবং নাঈম হাসান ১৮ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সব উইকেট হারিয়ে ২৭২ রান সংগ্রহ করেছিল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮২.৫ ওভারে ২৪৫ রানে অলআউট হয়। সফরকারীদের ইনিংসে তাগেনারিন চন্দরপল ১৮৪ বলে ৫৬ রান, জন ক্যাম্পবেল ৭৮ বলে ৫৪ রান এবং জাস্টিন গ্রিভস ১০৩ বলে ৪৬ রান করেন। এছাড়া অধিনায়ক রস্টন চেজ ৬০ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে নাঈম হাসান অসাধারণ বোলিং করে ৩৩ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট শিকার করেন। এই উইকেটের মাধ্যমেই তিনি টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম বাংলাদেশি স্পিনার হিসেবে ৫০ উইকেট পূর্ণ করেন। এছাড়া তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে এবং হাসান মাহমুদ ও শরীফুল ইসলাম একটি করে উইকেট লাভ করেন।
প্রথম ইনিংসে পাওয়া ২৭ রানের লিড মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ১ রানের মাথায় তানজিদ হাসান তামিম আউট হন। এরপর একে একে সাজঘরে ফেরেন শাদমান ইসলাম (১৩), নাজমুল হোসেন শান্ত (১০), তাওহিদ হৃদয় (০) এবং লিটন দাস (৪)। মেহেদী হাসান মিরাজও ৯ রান করে আউট হলে ৫৩ রানের মাথায় ৬ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের ঝুঁকিতে পড়ে দল। ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে রস্টন চেজ ৩টি, জোমেল ওয়ারিকান ২টি এবং শামার জোসেফ ১টি উইকেট নিয়ে টাইগার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান।
তবে সপ্তম উইকেটে জাকের আলী ও নাঈম হাসান দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি। তারা অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মূল্যবান রান যোগ করে দলকে একশ রানের লিড পার করান। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য থাকবে বাকি চার উইকেটে স্কোরবোর্ডে আরও কিছু রান যোগ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে একটি চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড় করানো।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।