রাজধানীর মিরপুরে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড জবরদখল করে গাড়িপ্রতি প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবহন শ্রমিকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরে উল্টো তাদেরই চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় পরিবহন সেক্টরে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রাজধানীর মিরপুর এলাকায় মোট পাঁচটি লাভজনক লেগুনা স্ট্যান্ড জোরপূর্বক জবরদখল করা হয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
- দখলদাররা প্রতিটি লেগুনা থেকে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছিল, যা দিতে অস্বীকার করলেই শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
- চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে চাঁদাবাজ চক্রটি মারধরের পর উল্টো নিরীহ শ্রমিকদেরই চাঁদাবাজ সাজিয়ে থানায় সোপর্দ করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মিরপুরের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লেগুনা স্ট্যান্ড বলপূর্বক দখল করে গাড়িপ্রতি প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। এই অবৈধ চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করলেই পরিবহন শ্রমিকদের ওপর নেমে আসছে শারীরিক নির্যাতন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র মিরপুরের বিভিন্ন রুটের লেগুনা স্ট্যান্ডগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে দীর্ঘদিন ধরে তৎপর ছিল। সম্প্রতি তারা পেশিশক্তির জোরে স্ট্যান্ডগুলো দখল করে এবং চালক ও শ্রমিকদের ওপর চাদাঁ দেওয়ার জন্য নানামুখী চাপ সৃষ্টি করে। প্রতিদিন নির্ধারিত চাঁদার পরিমাণ ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়ায় আর্থিকভাবে চরম বিপাকে পড়েন দিন এনে দিন খাওয়া পরিবহন শ্রমিকরা।
গত কয়েকদিন ধরে এই অবৈধ দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও লাইনম্যান। এরই জেরে গত পরশু অভিযুক্ত চক্রটি সংঘবদ্ধ হয়ে কয়েকজন চালক ও শ্রমিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাদের বেধড়ক মারধর করে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়; মারধরের পর নিজেদের অপরাধ ঢাকতে উল্টো ওই শ্রমিকদেরই চাঁদাবাজ হিসেবে অভিযুক্ত করে থানায় সোপর্দ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা।
এই অমানবিক ঘটনায় মিরপুর এলাকার লেগুনা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ প্রকৃত চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যদি এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে সাধারণ শ্রমিকরা বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবহন নেতারা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।