চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী আদনান আলতাফের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার সকালে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলায় কলেজের পাশের একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লার এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত চলছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নিহত আদনান আলতাফ ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সুপুরের বুনপাড়া, দাঙ্গালপাড়ার বাসিন্দা আলতাফ হোসাইন রাথারের ছেলে এবং কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- গত ২ নভেম্বর রাত থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন এবং পরদিন ৩ নভেম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষ ও তার মা নিঘাত বেগম বুড়িচং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
- বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, গত বুধবার সকালে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে কলেজ ক্যাম্পাসের প্রায় ৫০০ গজ দূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভারতের জম্মু-কাশ্মীর থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন আদনান আলতাফ। কিন্তু সেই স্বপ্নের করুণ পরিণতি হয়েছে তার রহস্যজনক মৃত্যুতে। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলায় অবস্থিত ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের পাশের একটি পুকুর থেকে আদনানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন ওই পুকুরে তার মরদেহ ভাসছিল। গত গত ২ নভেম্বর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। আদনান ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সুপুর এলাকার বুনপাড়া, দাঙ্গালপাড়ার বাসিন্দা আলতাফ হোসাইন রাথারের ছেলে। তিনি ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনায় অনিয়মিত ছিলেন আদনান। শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক বিপর্যস্ততার কারণে নিয়মিত ক্লাস করতে না পারায় শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়েন তিনি। সম্প্রতি সুস্থ হয়ে আবার পড়াশোনা শুরু এবং পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রত্যাশায় পরিবারের উদ্যোগে তাকে ফের বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। গত ৩০ অক্টোবর পরীক্ষার উদ্দেশ্যে মাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন আদনান। সন্তানের পড়াশোনায় যাতে আর কোনো বাধা না আসে, সে জন্য তার সঙ্গে বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মা নিঘাত বেগম। গত ২ নভেম্বর রাতে হোস্টেল থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না।
নিখোঁজের পর গত ৩ নভেম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষ ও আদনানের মা বুড়িচং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধান শুরু করে। বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে মরদেহ ঢাকার একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা ভারতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
একজন বিদেশি শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মহলে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।