দীপাবলির প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ উপহার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি বন্ধ চা বাগানের ১৯ হাজার শ্রমিককে ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা ও ৫০ কেজি চাল প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া, রেশনে স্থায়ীভাবে ৩৫ কেজির পরিবর্তে ৫০ কেজি চাল দেওয়ার পরিকল্পনা এবং বন্ধ বাগানগুলো দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বন্ধ চা বাগানের ১৯ হাজার শ্রমিককে দীপাবলির উপহার হিসেবে এককালীন ৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং ৫০ কেজি চাল প্রদান করা হবে।
- রেশন ব্যবস্থায় চা শ্রমিকদের জন্য চালের বরাদ্দ ৩৫ কেজি থেকে বাড়িয়ে স্থায়ীভাবে ৫০ কেজি করার বিষয়ে রাজ্য সরকার চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
- প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনার আওতায় শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করতে এবং বন্ধ থাকা চা বাগানগুলো দ্রুত সচল করতে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীপাবলির উৎসবের প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গের চা শিল্পাঞ্চলে এক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে তিনি জানান, রাজ্যের বন্ধ চা বাগানগুলোর ১৯ হাজার শ্রমিককে দীপাবলির উপহার হিসেবে ৫ হাজার টাকা নগদ এবং ৫০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও আর্থিক সংকটে থাকা শ্রমিকদের জন্য এই ঘোষণা এক বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলোর বেহাল দশা এবং বহু বাগানের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধ থাকা নিয়ে রাজ্য সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। বর্তমানে রেশন ব্যবস্থায় শ্রমিকরা ৩৫ কেজি চাল পেয়ে থাকেন, তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বরাদ্দ বাড়িয়ে স্থায়ীভাবে ৫০ কেজি করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে চা শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংকে বন্ধ চা বাগানগুলো দ্রুত খোলার বিষয়ে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনার আওতায় শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত জব কার্ড প্রস্তুত রাখতে হবে। সামসিং-সহ বেশ কিছু বাগান ইতিমধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি বাগানগুলোকেও দ্রুত সচল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন শ্রমিকরা এই আর্থিক সহায়তা ও রেশন বৃদ্ধির ফলে দীপাবলির আনন্দ কিছুটা হলেও উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া, সরকারি এই উদ্যোগ চা শিল্পের সামগ্রিক সংকট নিরসনে এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।