চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলায় সাক্ষ্য দিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা (এনবিডব্লিউ) জারি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বারবার সমন পাঠানোর পরও নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আদালত এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত না থাকায় প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এনবিডব্লিউ বা অজামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
- চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার হাসান ইকবাল চৌধুরী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ৭০০ পুলিশ সদস্যের মধ্যে বর্তমানে সিএমপিতে কর্মরত আছেন ২৫৮ জন এবং বাকিরা বিভিন্ন ইউনিটে বদলি হয়েছেন।
- চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোঃ মফিজুল হক ভূঁইয়া স্পষ্ট করেছেন যে এটি কোনো অপরাধমূলক মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়, বরং সাক্ষ্য নিশ্চিত করতে আদালতের পক্ষ থেকে সাক্ষীর ওপর জারি করা আইনগত বাধ্যবাধকতা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিচার বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায়, মামলার নির্ধারিত তারিখে সাক্ষ্য দিতে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকা প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা বা 'নন-বেইলেবল ওয়ারেন্ট ফর উইটনেস' (এনবিডব্লিউ) জারি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এবং শিশু আদালতসহ বিভিন্ন বেঞ্চের কার্যক্রমে এই তথ্য উঠে এসেছে।
আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বা সাক্ষী হিসেবে পুলিশ সদস্যদের নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার পর বা সাক্ষ্যগ্রহン শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য অন্য কোনো জেলায় বা ইউনিটে বদলি হয়ে গেছেন। দূরবর্তী কর্মস্থল কিংবা দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত তারিখে চট্টগ্রামে এসে সাক্ষ্য দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এভাবে একাধিকবার সমন অমান্য বা অনুপস্থিতির ঘটনা ঘটলে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী পরোয়ানা জারি করতে বাধ্য হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোঃ মফিজুল হক ভূঁইয়া স্পষ্ট করেছেন যে, এই পরোয়ানাগুলো কোনো ফৌজদারি অপরাধের আসামি হিসেবে দেওয়া হয়নি। এগুলো মূলত সাক্ষীদের আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করার একটি আইনি মাধ্যম, যা শুধুমাত্র পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সাধারণ সাক্ষীদের অনুপস্থিতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে বর্তমানে সিএমপিতে কর্মরত আছেন ২৫৮ জন এবং বাকিরা দেশের অন্যান্য ইউনিটে কর্মরত।
এই ঘটনার পর সিএমপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে 'অতীব জরুরি' চিঠি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় পুলিশের এই অনুপস্থিতিকে অন্যতম প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুলিশ সদস্যদের বদলিজনিত কারণে সৃষ্ট এই সাক্ষ্য জটিলতা দূর করতে ডিজিটাল সাক্ষ্যগ্রহণ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি, অন্যথায় বিচার বিলম্বিত হওয়ার এই সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।