চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরির চাপায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা মুসফিরাত নিহত হওয়ার ঘটনায় ৫ ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ৬০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি মেনে নেওয়ার শর্তে অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আন্তর্জাতিক ইসলামী বিদ্যালয়, চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ২১ বছর বয়সী মাইশা মুসফিরাত লরির চাপায় নিহত হন।
- দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ও রেললাইনে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ৬০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
- চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারসহ শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে বিকেল ৩টার পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়িতে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিদ্যালয়, চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) প্রধান ফটকের সামনে লরির চাপায় মাইশা মুসফিরাত (২১) নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটতলিয়া গ্রামের শাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তারের মেয়ে। এ ঘটনায় আরও দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে মাইশাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের ফটকের পাশে মহাসড়কের ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি লোকাল বাসের পেছনে থাকা একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটির ওপর উঠে পড়ে। এতে সড়কের পাশে থাকা শিক্ষার্থীরা বাসের নিচে চাপা পড়েন। স্থানীয় লোকজন ও হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়ক ও রেললাইনে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন এবং ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার যানবাহন ও কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। এ সময় মহাসড়কের ওপরই নিহত মাইশার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা ও এর অগ্রগতি জানানো, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা, কন্টেইনার ডিপোর লরি দিয়ে মহাসড়ক দখল বন্ধ করা, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল, ঘটনাস্থলে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান। এদিকে নিহত মাইশার বাবা শাখাওয়াত হোসেন জানান, আগামী শুক্রবার মেয়ের জন্মদিন পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও আজ লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাকে। বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. শফিউল আলম জানিয়েছেন, ঘাতক গাড়ি দুটি আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।