চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঢাকাগামী একটি ট্যাংক লরির ধাক্কায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী মাইশা মুশফিরাত (২১) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে রাস্তা পারাপারের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শোক প্রকাশ করে ক্লাসে বিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় ডালাস পেট্রল পাম্পের পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির ট্যাঙ্কলরি ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনা ঘটে।
- নিহত মাইশা মুশফিরাত (২১) আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তিনি মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়ার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেনের কন্যা।
- দুর্ঘটনার পর আইআইইউসির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী চমেক হাসপাতালে ছুটে যান এবং মর্মান্তিক এই মৃত্যুর কারণে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির ট্যাংক লরির ধাক্কায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত (২১) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে উপজেলার কুমিরা এলাকার ডালাস পেট্রল পাম্পের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় মাইশার সাথে থাকা আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সহপাঠীদের সহযোগিতায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাইশা মুশফিরাত মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির কন্যা ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, প্রতিদিনের মতো ক্লাস করতে যাওয়ার সময় মহাসড়ক পার হওয়ার মুহূর্তে ঢাকাগামী একটি বেপরোয়া ট্যাংক লরি শিক্ষার্থীদের সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর পরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং মহাসড়কে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক জানান, হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুর খবরে আইআইইউসি ক্যাম্পাসে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়। খবর পাওয়া মাত্রই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান এবং আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ কাশেম স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় নিহত ছাত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। এই শোকাবহ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সব ধরনের ক্লাস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
মহাসড়কগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী এলাকায় অপরিকল্পিত পারাপার এবং ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম উদ্বিগ্ন করে তুলছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে ট্রাফিক সিগন্যাল বা গতিরোধক স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন সচেতন মহল ও শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনার পর মহাসড়কের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।