হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এএসআই অতনু বণিককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতে দেখা যায়। এর আগে একই থানায় এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হলে তাকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে মাসুদ আলম পরিচালিত ‘আইটিভি’ নামক ফেসবুক পেজে এএসআই অতনু বণিকের ঘুষ গ্রহণের ভিডিওটি প্রকাশিত হয়।
- ভিডিওতে এএসআই অতনু বণিককে মামলার ধারা পরিবর্তনের ভয় দেখিয়ে এবং আসামি বহনের খরচ ও সিএনজি ভাড়ার অজুহাতে এক হাজার টাকার নোট হাতে গুনতে দেখা যায়।
- এর আগে একই থানার আরেক এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছিল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় পুলিশের ঘুষ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর আরেকটি ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইন নামক এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একই থানার আরেক এএসআই অতনু বণিকের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চুনারুঘাট থানার দুই পুলিশ সদস্যের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে মাসুদ আলম নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুক পেজ ‘আইটিভি’-তে এই ভিডিওটি আপলোড করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, এএসআই অতনু বণিক এক ব্যক্তির সঙ্গে বসে আইনি জটিলতার ভয় দেখাচ্ছেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তাকে মামলার ধারা ও জামিনের বিষয় বুঝিয়ে ‘আসামি বহনের খরচ’ ও ‘সিএনজি ভাড়া’ বাবদ টাকা দাবি করতে দেখা যায়। এ সময় ক্যামেরার সামনেই তাকে এক হাজার টাকার নোট হাতে গুনে নিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ৩২৪ ধারায় মামলা হলে দ্রুত জামিন পাওয়া সম্ভব, কিন্তু অন্যান্য ধারার ভয় দেখিয়ে তিনি মূলত আপস-মীমাংসার নামে অর্থ আদায় করছেন বলে স্থানীয়দের জোরালো অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এএসআই অতনু বণিকের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এর আগে এক নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তৎকালীন পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল ভুক্তভোগী পরিবার। একের পর এক এমন গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় থানার সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর আগের দিন একই থানার এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের দম্ভের সঙ্গে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাকে দ্রুত পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছিল।
পরপর দুটি ঘটনায় চুনারুঘাট থানার সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা রয়েছে এবং তিনি তা যাচাই-বাছাই করছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে অভিযুক্ত এএসআই অতনু বণিকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।