সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা ১৭ দিন ধরে 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি চলছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৮টি বিভাগের প্রায় ৩০টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চলমান এই আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে চুয়েটের সার্বিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল এবং দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি পালন করছেন ছয় হাজার শিক্ষার্থী।
- চলমান এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের ২৫ থেকে ৩০টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০২১-২২, ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
- গত ২৭ জুলাই যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় ২১ সেপ্টেম্বর তাকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল এবং অবিলম্বে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে চলমান আন্দোলনের কারণে তৈরি হয়েছে তীব্র অচলাবস্থা। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৮টি বিভাগের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও প্রতিদিন অবস্থান কর্মসূচি ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলমান এই লাগাতার শাটডাউনের প্রভাবে বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পুরকৌশল, ইলেকট্রনিকস ও টেলিকমিউনিকেশনস ইঞ্জিনিয়ারিং, বস্তু ও ধাতব কৌশল এবং মেকাট্রনিকস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চলমান পরীক্ষাগুলো স্থগিত রয়েছে। এছাড়া কম্পিউটারবিজ্ঞান ও কৌশল, যন্ত্রকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের পরীক্ষাসমূহ যথাসময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি।
উপাচার্য পরিবর্তনের জেরে সৃষ্ট এই সংকট নিরসনে শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ নিয়মিত প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে। গত বৃহস্পতিবারও উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আহসানউল্লাহর নেতৃত্বে শিক্ষকবৃন্দ সেখানে যোগ দেন। শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে অনড় রয়েছেন এবং আগামী সপ্তাহে সভা করে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
টানা ১৭ দিন ধরে সকল ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র সেশনজট ও শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দ্রুত সরকারি পর্যায়ে এই সংকটের সমাধান না হলে আসন্ন পূজার ছুটির দীর্ঘ বিরতির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত চুয়েটে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।