বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' আরও ঘনীভূত হয়ে অতি তীব্র রূপ ধারণ করছে। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা সহ পাঁচ রাজ্যে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ল্যান্ডফলের আশঙ্কায় ৫৩টি ট্রেন বাতিল করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঘণ্টায় ১৭ কিমি বেগে ধেয়ে আসা এই ঝড়ের বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৪০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমডি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৪৯০ কিলোমিটার এবং কাকিনাদা থেকে ৫৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
- ঝড়ের সম্ভাব্য আঘাত ও নিরাপত্তার কারণে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর মিলিয়ে মোট ৫৩টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, যার মধ্যে বিজয়ওয়াড়া ও বিশাখাপত্তনম রুটের ট্রেন প্রধান।
- ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে ফুঁসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে ঘণ্টায় প্রায় ১৭ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৪৯০ কিলোমিটার, কাকিনাদা থেকে ৫৬০ কিলোমিটার এবং বাপাতলা থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এই ঝড়টি। আগামী ১২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন আবহবিদরা, কারণ এই সময়ের মধ্যে ঝড়টি আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, তেলঙ্গানা, ছত্তিশগড় এবং পুদুচেরি রাজ্যে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহবিদদের অনুমান, মঙ্গলবার সকালের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। বিশেষ করে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায় এবং ইয়ানামের কাছ দিয়ে এটি স্থলভাগে বা ল্যান্ডফল ঘটাতে পারে। ঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর মিলিয়ে মোট ৫৩টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বিজয়ওয়াড়া, রাজামুন্দ্রি, মছিলিপত্তনম, নরসাপুর, ভীমাভারম, কাকিনাডা বন্দর, গুন্টুর এবং বিশাখাপত্তনমের সঙ্গে সংযোগকারী রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ বা আংশিক ব্যাহত হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে বিশেষ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিম্নঞ্চলীয় এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
এদিকে, ঝড়ের সরাসরি আঘাত পশ্চিমবঙ্গে না পড়লেও এর পরোক্ষ প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে ধাপে ধাপে বৃষ্টি শুরু হতে পারে এবং বুধবার বৃষ্টির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়ের সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে, যা দমকা হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের পরিকাঠামো ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।