বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-তে রূপ নিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২ থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের ৫টি বিভাগে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সমুদ্রবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ৩ নভেম্বর অন্ধ্র উপকূলের বিশাখাপত্তনম ও মছলিপত্তনমের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ল্যান্ডফল বা স্থলভাগে আঘাত হানার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
- ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশের খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত এবং দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
- সমুদ্র উত্তাল থাকায় বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-তে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী ২ নভেম্বর থেকে এর প্রভাব উপকূলীয় অঞ্চলে অনুভূত হতে শুরু করবে এবং ৩ নভেম্বর নাগাদ এটি ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এটি সরাসরি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা কম থাকলেও এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের ৫টি বিভাগে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়বে। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় জেলাগুলোতে জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ও কেন্দ্রের চাপ পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত থেকে বাড়িয়ে ২ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেলেদের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি না ঘটে।
ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা, বিশেষ করে আমন ধানের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানার পর এর শক্তি দ্রুত হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু করেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।