দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের নিম্নচাপটি আগামী ৬ ঘণ্টায় গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের ওপর সরাসরি কোনো ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা নেই।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আগামী ৬ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে মধ্য-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
- বাংলার ওপর সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের কোনো সতর্কতা না থাকলেও, ১ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নভেম্বরের শুরুতেই ফের বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন আন্দামান সাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করছে। আবহাওয়া দফতরের ৩১ অক্টোবরের বুলেটিন অনুযায়ী, এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে এবং আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই নিম্নচাপটি মূলত দক্ষিণ ও উত্তর আন্দামান সাগর এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ওপর অবস্থান করছিল। শুক্রবার এটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয় এবং খুব দ্রুত গভীর নিম্নচাপ ও পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সিস্টেমটির গতিপথ ও তীব্রতার ওপর আবহাওয়াবিদরা নিবিড় নজর রাখছেন।
যদিও এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোনো সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়নি, তবুও আবহাওয়া দফতর সম্ভাব্য প্রভাবে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা ও নদীফাসহ বেশ কিছু জেলায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নভেম্বরের এই সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় এবং বাংলার উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোতে এর পরোক্ষ প্রভাব নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। আবহাওয়াবিদরা সাধারণ মানুষকে খোলা মাঠে বা বজ্রঝড়ের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং জলাশয় ও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।