আলিপুরদুয়ারের সঙ্কোশ নদীতে ভুটানের হ্রদ বিপর্যয় ও হড়পা বানের জেরে হঠাৎ জল কালো হয়ে প্রচুর মরা মাছ ভেসে এসেছে। রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাঁও জানিয়েছেন, বিষক্রিয়ায় মারা যাওয়া কয়েক টন মাছ ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। মানবদেহে এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে নদী থেকে মাছ সংগ্রহ ও সেগুলির ব্যবহার থেকে বিরত থাকার কড়া সতর্কতা জারি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রতিবেশী দেশ ভুটানে হ্রদ ফেটে ঘটা হড়পা বানের প্রভাবে অসম-বাংলা সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া সঙ্কোশ নদীর জল গভীর রাতে হঠাৎ কালো হয়ে যায় এবং বিপুল পরিমাণে মরা মাছ ভেসে আসে।
- রাজ্যের বনমন্ত্রী ও কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাঁও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কীটনাশক বা বিষক্রিয়ায় মারা যাওয়া কয়েক টন মরা মাছ ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে।
- বিষাক্ত এই মরা মাছ সাধারণ মানুষের খাদ্যের তালিকায় চলে গেলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে প্রশাসন সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং জনসাধারণকে বাজার থেকে মাছ কেনার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আলিপুরদুয়ার জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত সঙ্কোশ নদীতে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে বিপুল পরিমাণ মরা মাছ ভেসে আসায় উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গভীর চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভুটানে হড়পা বান ও হ্রদ ফেটে যাওয়ার তীব্র বিপর্যয়ের ঘটনার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের নদীগুলোকে ঘিরে প্রশাসনিক সতর্কতা জারি ছিল। এর মধ্যেই শুক্রবার গভীর রাতে নদীটির জল হঠাৎ কুচকুচে কালো বর্ণ ধারণ করে এবং স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসতে শুরু করে হাজার হাজার মৃত মাছ। নদীর স্বাভাবিক জলস্তর বজায় থাকলেও মাছগুলোর এমন আকস্মিক ও গণমৃত্যু পরিবেশবিদ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে।
ঘটনার পরপরই শনিবার সকালে সঙ্কোশ নদী সংলগ্ন গ্রামগুলোতে ছুটে যান রাজ্যের বনমন্ত্রী তথা কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাঁও। তিনি দুর্গত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে বনমন্ত্রী নিশ্চিত হয়েছেন যে, মাছগুলোর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। ভুটান থেকে নেমে আসা জলের সঙ্গে কোনো মারাত্মক কীটনাশক বা বিষাক্ত রাসায়নিক মিশে যাওয়ার ফলে এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নদীর পাড়ে স্থানীয় কিছু মানুষের মাছ সংগ্রহ করার প্রবণতা দেখে তিনি তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে কারণ বনমন্ত্রীর আশঙ্কা অনুযায়ী, এই বিষাক্ত মরা মাছের একটি বড় অংশ—প্রায় কয়েক টন—ইতিমধ্যেই নদী থেকে সংগ্রহ করে স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব মাছ সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে পৌঁছে গেলে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিষাক্ত ভারী ধাতু বা কেমিক্যালে আক্রান্ত এই মাছ খাওয়ার ফলে মারাত্মক খাদ্য বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং) সহ কিডনি ও লিভারের জটিল রোগ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন তাই দ্রুত এসব মাছের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং নদী তীরবর্তী এলাকায় মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের অন্যান্য নদীগুলোর জল এবং জলজ Ecosystem নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদেরও মাছ কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজারে দেশীয় বা নদীর মাছ কেনার সময় তা নিখুঁতভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন খোদ বনমন্ত্রী। একইসঙ্গে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে বাজারগুলোতে নজরদারি জোরদার করেছে যাতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী এই বিষাক্ত মরা মাছ সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করতে না পারে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরাও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জল দূষণ রোধ করা সম্ভব হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।