গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ১০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৯ জনে এবং আক্রান্তের মোট সংখ্যা এক লাখ ৪০ হাজার ৯০৯ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন পাঁচজন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে নতুন করে দুই হাজার ১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
- একদিনে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন বরিশাল বিভাগের।
- চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪৩৯ জন এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৪০ হাজার ৯০৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ছয়জন মারা গেছেন। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ১০ জন রোগী, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ দৈনিক ভর্তির রেকর্ডগুলোর একটি। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৪৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি রয়েছে ঢাকা বিভাগে। মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই ঢাকা বিভাগের এবং একজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার ৯০৯ জনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমের রেশ এবং মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংসের কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে হাজার হাজার ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নয়, বরং এডিস মশার বিস্তার রোধে কঠোর ও সমন্বিত মশকনিধন অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বাসাবাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ও চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। জ্বর আসার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সিটি করপোরেশনগুলোর পক্ষ থেকে মশকনিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।