দেশের সামুদ্রিক ও নদীবন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও দক্ষ করতে জাতীয় বন্দর কৌশল বা 'ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি' প্রণয়ন করা হচ্ছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের মান উন্নত করতে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানকে দেশে আনা হয়েছে। দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ নিশ্চিত করতেই সরকারের এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দেশের সামুদ্রিক ও নদীবন্দরগুলোর কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে 'ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি' বা জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি করা হচ্ছে।
- কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং কার্যক্রমে গতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক মান আনতে দেশের বন্দরে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক অপারেটরদের যুক্ত করা হয়েছে।
- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এই সমন্বিত কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সার্বিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসার এবং সামুদ্রিক খাতের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের সামুদ্রিক ও নদীবন্দর খাতের আধুনিকায়ন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত 'জাতীয় বন্দর কৌশল' বা ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা হচ্ছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী সম্প্রতি এক দাপ্তরিক বৈঠকে এই যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই এই কৌশলগত রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা বন্দর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা ও দক্ষতা আনবে।
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের অপারেশনাল দক্ষতা বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বিশ্বের খ্যাতনামা ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশের বন্দরে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান প্রশাসন। এর ফলে কন্টেইনার জট কমার পাশাপাশি হ্যান্ডেলিং সময় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে বন্দর বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করছেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় নব্বই শতাংশই সমুদ্রবন্দরগুলোর মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। ফলে বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
এই জাতীয় বন্দর কৌশল কেবল বর্তমানের সংকট নিরসনই করবে না, বরং ২০৪১ সালের উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে নৌপরিবহন খাতকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে। সরকারের এই পদক্ষেপে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি আস্থাবীল হবেন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে বলে বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।