ন্যূনতম ত্রিশ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। গাজীপুর ও সাভার শিল্পাঞ্চল এলাকায় এই বিক্ষোভের জেরে প্রায় ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পোশাক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মাসিক ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন শ্রমিক ও পথচারী আহত হয়েছেন।
- বিক্ষোভ ও উত্তেজনার মুখে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের অন্তত ৩০টি কারখানা সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা সড়কে নেমে এলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে, এতে নারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় তাদের বর্তমান মজুরি অত্যন্ত কম। এর আগে মিরপুরেও একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছিলেন শ্রমিকরা। মালিকপক্ষের আশ্বাসের পরও বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আবারও রাজপথে নেমে আসেন।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে নিরাপত্তার স্বার্থে আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকার অন্তত ৩০টি কারখানায় আজকের জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। অনেক কারখানার ফটকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধিদের দাবি, মালিকপক্ষ ও সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পোশাক খাতের এই অস্থিরতা নিরসনে দ্রুত ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে মজুরি কাঠামোর যৌক্তিক সমাধান না করলে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।