সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনার জটিলতা ও কারিগরি সংকটের কারণে ঢাকা থেকে রিয়াদ রুটের মোট ১৫৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন প্রায় ২২ হাজার ৭২১ জন প্রবাসী ও সাধারণ বিমানযাত্রী। সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো বিকল্প ব্যবস্থা ও টিকিটের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকা থেকে রিয়াদ রুটে মোট ১৫৯টি নির্ধারিত ফ্লাইট সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে, যা দুই দেশের বিমান চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।
- ফ্লাইট বাতিলের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রী সরাসরি বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
- সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ ও বিমানবন্দর সূত্র ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া কিংবা বিকল্প ফ্লাইটে আসন বরাদ্দের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও অপারেশনাল সংকটের কারণে ঢাকা থেকে রিয়াদ রুটে চলাচলকারী ১৫৯টি ফ্লাইট আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে পড়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ২২ হাজার ৭২১ জন প্রবাসী শ্রমিক ও সাধারণ বিমানযাত্রী। হঠাৎ এই ফ্লাইট স্থগিতের ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে, কারণ অনেকেরই ভিসার মেয়াদ ও ছুটির সময়সীমা শেষের পথে।
গত কয়েক দিন ধরে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় ট্রাফিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার অবনতির কারণে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ও বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী প্রধান এয়ারলাইন্সগুলোর স্লট বরাদ্দ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় এবং পর্যাপ্ত পার্কিং বে না পাওয়ায় ঢাকা থেকে নিয়মিত শিডিউল বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ বিমান, সৌদিয়া এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাকে এই বড়ো সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, কোনো প্রকার পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিমানবন্দরে এসে তারা ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সেলস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীরা ভিড় জমাচ্ছেন। এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আটকে থাকা যাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সৌদি আরব পাঠানোর জন্য অতিরিক্ত বা বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া যারা যাত্রা বাতিল করতে চান, তাদের সম্পূর্ণ টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই বিশাল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল ও যাত্রীদের আটকা পড়ার ঘটনা বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি এবং প্রবাসীদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব ফেলছে। রিয়াদগামী অনেক কর্মীর ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা তাদের কর্মসংস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিমান পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কূটনৈতিক স্তরে দ্রুত আলোচনা চালিয়ে এই সংকট নিরসন না করলে মধ্যপ্রাচ্যের রুটে এয়ারলাইন্সগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও সুনামের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।