রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার চরম বিশৃঙ্খলা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের অংশ হিসেবে সচল ৯৮টি বাস রুট কমিয়ে ৩২টিতে নামিয়ে আনার চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। আগামীকাল রোববার থেকে প্রস্তাবিত ৩২টির মধ্যে প্রাথমিকভাবে ছয়টি নতুন রুটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। প্রতিটি রুটে একক কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনার মাধ্যমে যানজট ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর ৯৮টি সচল বাস রুটকে কমিয়ে ৩২টি সমন্বিত রুটে রূপান্তর করা হচ্ছে এবং আগামীকাল রোববার এর মধ্যে ছয়টি রুটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
- পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১০ হাজার যাত্রীর বোর্ডিং-অ্যালাইটিং সার্ভে, ৩৫ হাজার যাত্রীর অরিজিন-ডেস্টিনেশন সার্ভে এবং মহানগরীর ৭২টি স্থানে একটানা ৭২ ঘণ্টা ট্রাফিক কাউন্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
- প্রস্তাবিত ৩২টি রুটের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ যাত্রীর নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে, যা শহরের মোট পার্সন ট্রিপের প্রায় ৮ শতাংশ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা, অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার প্রবণতা রোধে বাস রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে সচল থাকা ৯৮টি বাস রুটকে পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি সমন্বিত রুটে নিয়ে আসা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল রোববার থেকে প্রস্তাবিত ৩২টি রুটের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ছয়টি রুটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি রুটগুলোও এই আধুনিক ও শৃঙ্খলিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে একই সড়কে একাধিক কোম্পানির বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও নির্ধারিত স্টপেজ না মানার কারণে রাজধানীতে তীব্র যানজট ও যাত্রী ভোগান্তি তৈরি হচ্ছিল। এই সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ২০১১ সালে প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। পরে ২০১৯ সাল থেকে ডিটিসিএ সমীক্ষা শুরু করে এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বিআরটিএ, দুই সিটি কর্পোরেশন ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ৩২টি রুটের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করে। বিজ্ঞানসম্মত এই রূপরেখা তৈরিতে ড্রোন দিয়ে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বাস নেটওয়ার্কের অবকাঠামোগত পর্যালোচনাও করা হয়েছে।
ডিটিসিএ'র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলমের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা কোনো অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত নয়। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর বোর্ডিং-অ্যালাইটিং এবং ৩৫ হাজার যাত্রীর অরিজিন-ডেস্টিনেশন সার্ভে পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি মহানগরীর ৭২টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একটানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনা করা হয়েছে। এসব তথ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে বিমানবন্দর, মিরপুর-১০, কুড়িল, গাবতলী, মহাখালী, ফার্মগেট, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ীকে কেন্দ্র করে রুটগুলো বিন্যস্ত করা হয়েছে।
নতুন এই রুট নেটওয়ার্ক সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ যাত্রীর স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিটি রুটে নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালিত হওয়ায় ড্রাইভারদের বেপরোয়া গতি ও প্রতিযোগিতা কমবে। এর ফলে রাজধানীর ট্রাফিক সিস্টেমে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ বহুলাংশে লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।