ভারতের লোকসভা নির্বাচন ২০২৪-কে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই মিছিল থেকে দুই ঘণ্টা আটকের পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল, যেখানে রাহুল গান্ধী 'জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো' স্লোগান দিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।
- পুলিশের হেফাজতে প্রায় দুই ঘণ্টা থাকার পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় তোলে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল থেকে কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা এবং ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের আটক করে একটি নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যায়।
এর আগে লোকসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ককরোচ জনতা পার্টি ও কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো যৌথভাবে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও এবং বিক্ষোভের ডাক দেয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দিল্লির যন্তর মন্তরের বাইরে এবং নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের আশেপাশে নারী বিক্ষোভকারীদের হেনস্থা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে তীর্যক মন্তব্য করে বলেন, 'জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো', যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আটকের পর প্রায় দুই ঘণ্টা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। দলটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভারতের আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের এই আন্দোলন সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এর ফলে বিরোধী জোট সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।