লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

দত্তকের নামে শিশু কেনাবেচা, ফেসবুকে চলে দর

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 03 অক্টোবর 2026, 04:29 সকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 28 বার পঠিত
দত্তকের নামে শিশু কেনাবেচা, ফেসবুকে চলে দর
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শিশু কেনাবেচার একটি অবৈধ সিন্ডিকেট। 'দত্তক দেওয়া হবে' এমন চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে নবজাতক ও শিশু বিক্রির চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মূলত অভাবগ্রস্ত পরিবার ও নিঃসন্তান দম্পতিদের টার্গেট করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই অমানবিক অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছিল দেশজুড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • ফেসবুকে 'বাচ্চা দত্তক দেওয়া হবে' এমন বিভ্রান্তিকর ও প্রলুব্ধকর পোস্টের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নবজাতক ও শিশু কেনাবেচার অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছিল।
  • আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশু বিক্রির এই চক্রটি অভাবগ্রস্ত পরিবারগুলোকে টার্গেট করে টাকার বিনিময়ে সন্তান হাতবদল করত।
  • দত্তক নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে ফেসবুক পেজ ও মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে গোপন দর-কষাকষির মাধ্যমে মোটা অংকের লেনদেন সম্পন্ন হতো।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে ব্যবহার করে গড়ে ওঠা একটি সুসংগঠিত শিশু পাচার ও কেনাবেচার চক্রের সন্ধান মিলেছে। ‘বাচ্চা দত্তক দেওয়া হবে’—এমন ভুয়া ও প্রলুব্ধকর শিরোনামে ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ খুলে দীর্ঘদিন ধরে নবজাতক ও শিশু বেচাকেনার অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই চক্রের সদস্যরা মূলত সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও বিপন্ন পরিবারের গর্ভবতী নারী কিংবা সদ্যপ্রসূত শিশুদের টার্গেট করত। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে বা অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে শিশু সংগ্রহ করা হতো। পরবর্তীতে নিঃসন্তান ও সন্তান প্রত্যাশী বিত্তশালী দম্পতিদের কাছে চড়া মূল্যে ফেসবুকের মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ওই শিশুগুলোকে বিক্রি করা হতো। আইনগত কোনো প্রক্রিয়া বা আদালতের অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে এই লেনদেন সম্পন্ন হতো।

শিশু অধিকার কর্মী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বিদ্যমান শিশু সুরক্ষা আইন এবং দত্তক নেওয়ার সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান কঠোরভাবে না মানার কারণে এ ধরনের অপরাধী চক্রগুলো সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফেসবুকে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও বেআইনি পোস্ট নজরে আসার পর সাইবার অপরাধ দমন সেল এবং গোয়েন্দা বিভাগ তৎপরতা জোরদার করেছে। চক্রের মূল হোতা এবং এর সাথে জড়িত দালাল চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করতে চলছে বিশেষ অভিযান।

এই ন্যাক্কারজনক অপরাধ শুধু শিশু অধিকারের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধমূলক পাতা বা গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি এবং প্রযুক্তিগত ব্লক নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকেও এ ধরনের অবৈধ লেনদেন ও প্রতারণা থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানো প্রয়োজন।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ