গুগল ঘোষণা করেছে, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের এআই সেবা নিষিদ্ধ করবে, সেখানে অনুসন্ধান সেবা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ কোটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক গুগলের শিক্ষাসেবা ব্যবহার করেন। নিউ ইয়র্কের সরকারি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এআই ব্যবহারের ওপর এক বছরের নিষেধাজ্ঞা জারির পর এই বিতর্কিত হুঁশিয়ারি দিল প্রযুক্তি জায়ান্টটি, যা শিশু অধিকারকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ কোটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বর্তমানে গুগলের শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষাসেবা এবং ক্রোমবুক কম্পিউটার ব্যবহার করছেন।
- নিউ ইয়র্কের সরকারি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এআই ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা জারির পর গুগল এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি র্যান্ডি ওয়েইনগার্টেন এবং শিশু অধিকার সংগঠন ফেয়ারপ্লের নির্বাহী পরিচালক জশ গোলিন গুগলের এই পদক্ষেপকে শিক্ষার চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থ ও ব্র্যান্ড আনুগত্য তৈরির কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে গুগল তাদের অনুসন্ধান সেবা বন্ধের হুমকি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে এল যখন নিউ ইয়র্কের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এআই ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। গুগলের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ কোটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের শিক্ষাকার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যারা বর্তমানে গুগলের ক্লাসরুম সেবা ও ক্রোমবুক কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল।
গত আগস্ট মাসে গুগল ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ‘জেমিনি’ চ্যাটবট উন্মুক্ত করলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে এই সেবাটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এআই ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। গুগল দাবি করছে, তাদের সেবাগুলো শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক, তবে সমালোচকরা বলছেন, গুগল তাদের একচেটিয়া বাজার আধিপত্য ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে।
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং ফেডারেল ট্রেড কমিশনের সাবেক প্রধান লিনা খানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গুগলের এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মামদানির মতে, শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মুনাফার হাতিয়ার হতে পারে না। অন্যদিকে, ফেয়ারপ্লের নির্বাহী পরিচালক জশ গোলিন অভিযোগ করেছেন যে, গুগল শিক্ষার চেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী ব্র্যান্ড আনুগত্য তৈরির লক্ষ্যেই এই চাপ প্রয়োগ করছে, যা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
গুগলের এই কৌশল বিশ্বব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল অবকাঠামো ও প্রযুক্তি নির্ভরতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি একক প্রতিষ্ঠানের হাতে শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের নিয়ন্ত্রণ থাকা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই বিতর্ক প্রযুক্তি জায়ান্টদের একচেটিয়া প্রভাব এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের হস্তক্ষেপের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে কঠোর আইনি নিয়ন্ত্রণের দাবিকে আরও জোরালো করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।