যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এআই খাতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগে নাসডাক সূচক ১.১ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল হয়েছে এবং ডাও জোন্স সূচক ২৬৫ পয়েন্ট বেড়েছে। এশীয় বাজারে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের বড় দরপতন ঘটলেও ইউরোপের বাজারে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৪ শতাংশ এবং নাসডাক সূচক ১.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, তবে ডাও জোন্স সূচক ২৬৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
- এশীয় বাজারে বড় ধস নেমেছে; দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার ৭.৬ শতাংশ এবং এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ৯.৪ শতাংশ দর হারিয়েছে, যার ফলে কোস্পি সূচক ৫.৩ শতাংশ কমেছে।
- জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কাটছে; ইরান যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯ শতাংশ কমার পর বৃহস্পতিবার তা পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী প্রভাব বিশ্ব পুঁজিবাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৪ শতাংশ এবং প্রযুক্তি নির্ভর নাসডাক সূচক ১.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে ডাও জোন্স সূচক ২৬৫ পয়েন্ট বেড়ে বাজারকে কিছুটা ভারসাম্য দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
এআই খাতের অবকাঠামো নির্মাণ, বিশেষ করে ডেটা সেন্টার স্থাপনে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশীয় বাজারেও। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৫.৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৩৮৩.৮০ পয়েন্টে নেমেছে। এছাড়া জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৮ শতাংশ এবং তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক ৩.২ শতাংশ হারিয়েছে। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও শুল্ক কাঠামোতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের অবসানের ইঙ্গিত পাওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়, যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বুধবার প্রায় ৯ শতাংশ কমেছিল। তবে বৃহস্পতিবার তেলের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও আগের পতনের পর স্থিতিশীল অবস্থানে ফিরেছে।
ইউরোপের শেয়ারবাজারগুলোতে অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। জার্মানির ডিএএক্স সূচক ০.৬ শতাংশ, ফ্রান্সের ক্যাক ৪০ সূচক ১.২ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন। এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে সংশয় না কাটা পর্যন্ত বাজারে এই অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।