লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে স্যাম অল্টম্যানের দাবি কতটা সত্য

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 28 অক্টোবর 2026, 01:00 রাত | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 51 বার পঠিত
এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে স্যাম অল্টম্যানের দাবি কতটা সত্য
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ও ডেটাসেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ পানির ব্যবহার নিয়ে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সাম্প্রতিক মন্তব্য বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। গবেষকদের মতে, চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ এলএলএম মডেলগুলোর কুলিং সিস্টেম ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন হাজার হাজার গ্যালন পানির অপচয় হয়, যা স্যাম অল্টম্যানের দাবির বিপরীত চিত্র তুলে ধরে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের দাবি অনুযায়ী এআই প্রযুক্তি পরিচালনায় পানির ব্যবহার সামান্য হলেও পরিবেশ গবেষকরা একে মাত্রাতিরিক্ত বলে প্রমাণ করেছেন।
  • যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকদের তথ্যমতে, চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ২০ থেকে ৫০টি প্রম্পট বা কথোপকথন চালাতেই প্রায় ৫০০ মিলিলিটার পানি খরচ হয়।
  • মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর ডেটাসেন্টারগুলোতে সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিন লক্ষাধিক গ্যালন ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রমরমা যুগে এর পেছনে লুকিয়ে থাকা পরিবেশগত মূল্যের বিষয়টি দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে এক বক্তব্যে দাবি করেন যে, এই প্রযুক্তির জলীয় প্রভাব যতটা প্রচার করা হয় বাস্তবে তা ততটা মারাত্মক নয়। তবে তার এই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশ গবেষক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জেনারেটিভ এআইয়ের চাকা সচল রাখতে ডেটাসেন্টারের বিশাল সব সার্ভারকে শীতল রাখতে যে পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়, তা স্থানীয় জলাধারের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।

প্রযুক্তি খাতের তথ্যানুযায়ী, ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৪ বা গুগলের মতো বৃহৎ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ এবং তা সার্বক্ষণিক সচল রাখতে বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। আর এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে থার্মোপ্রযুক্তির শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় প্রচুর পানির অপচয় ঘটে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডের অধ্যাপক ড. লি রেনের গবেষণায় দেখা গেছে, একজন ব্যবহারকারী যখন চ্যাটজিপিটির সঙ্গে নিয়মিত চ্যাট করেন, তখন ডেটাসেন্টারে সার্ভারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রতি ৫ থেকে ৫০টি প্রশ্নের বিপরীতে অন্তত ৫০০ মিলিলিটার বিশুদ্ধ পানি বাষ্পীভূত হয়। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন এই সেবা গ্রহণ করায় মোট পানির ব্যবহার বিশাল অঙ্কে গিয়ে ঠেকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাইক্রোসফট আইওয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত ডেটাসেন্টারগুলোতে স্থানীয় পৌরসভার সরবরাহকৃত পানীয় জলের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। মাইক্রোসফটের ২০২৩ সালের টেকসই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে তাদের জলীয় ব্যবহার প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত এআই মডেলগুলোর বর্ধিত চাহিদার সঙ্গেই সরাসরি সম্পর্কিত। পরিবেশবাদীরা বলছেন, স্যাম অল্টম্যানের মতো প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বদের এ ধরনের লঘু মন্তব্য জলবায়ু সংকটের বাস্তবতাকে আড়াল করার একটি কৌশল মাত্র।

ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তার রোধ না করে বরং ডেটাসেন্টারগুলোতে 'ক্লোজড-লুপ কুলিং' বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় জলবায়ু পরিবর্তন ও তীব্র পানিসংকটের মুখে থাকা পৃথিবী এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। প্রযুক্তি শিল্পকে কেবল মুনাফা অর্জনের দিকে না তাকিয়ে পরিবেশবান্ধব কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার সময় এখনই এসেছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ