কুড়িগ্রাম কৃষি বিদ্যালয়ের ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মূলহোতা আব্দুস সালামকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৩। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোর ৪টায় রংপুরের কোতোয়ালি থানার আইডিয়াল মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি ল্যাপটপ ও ব্যাংক চেকবই জব্দ করা হয়। ভুক্তভোগীদের করা মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কুড়িগ্রাম কৃষি বিদ্যালয়ের নামে ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা চক্রটি প্রায় ১০০ প্রার্থীর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয় এবং গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ৪২ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগের ভুয়া আদেশ প্রকাশ করে।
- বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার আইডিয়াল মোড়ের শান্তিধারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসআরবি-১৩ চক্রের মূলহোতা আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ ও ফাঁকা চেকবই জব্দ করে।
- প্রতারণার শিকার চাকরিপ্রার্থী ফরহাদুল ইসলাম মণ্ডল বাদী হয়ে গত ২৭ অক্টোবর পীরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন এবং এর আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নকল ওয়েবসাইট বন্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কুড়িগ্রাম কৃষি বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট নকল করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি আব্দুস সালামকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৩)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার আইডিয়াল মোড়ের শান্তিধারা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, চাকরিপ্রার্থীদের বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইয়ের ফাঁকা পাতা এবং চাকরিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জব্দ করা হয়। এসআরবি-১৩ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম একটি মাদরাসার সাবেক সুপার। তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র কুড়িগ্রাম কৃষি বিদ্যালয়ের হুবহু নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে বিভিন্ন পদে লোকবল নেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেয়। ওই বিজ্ঞপ্তি দেখে প্রলুব্ধ হয়ে চাকরিপ্রার্থীরা আবেদন করেন। পরবর্তীতে চক্রটি রংপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিয়ে প্রায় ১০০ প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেয় এবং পরবর্তীতে রাজশাহীতে তাদের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর বিভিন্ন পদে ৪২ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগের কথা উল্লেখ করে একটি ভুয়া অফিস আদেশও প্রকাশ করা হয়, যার মাধ্যমে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।
বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর তারা নকল ওয়েবসাইটটি বন্ধের আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পালুনাশাহাপুর গ্রামের ফরহাদুল ইসলাম মণ্ডল গত ২৭ অক্টোবর পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে আব্দুস সালামকে প্রধান আসামি করা হয়। এসআরবি-১৩ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন প্রতারণার রেকর্ড রয়েছে। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে মাদরাসা সুপার থাকাকালে বীমার নামে নারীদের অর্থ আত্মসাৎ এবং সুন্দরগঞ্জ এলাকায় নলকূপ স্থাপনের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রংপুর এসআরবি-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আসামিকে জব্দ করা আলামতসহ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই প্রতার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় আনতে বর্তমানে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ধরনের ভুয়া নিয়োগ চক্রের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।