পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় বিজেপির দুই নতুন বিধায়কের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে শুভেন্দু দাবি করেন, প্রায় ৭৫ বছর বয়সে মমতার রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে মমতাকে পরাজিত করার পরও ওই আসনটি নিজের কাছে ধরে রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নন্দীগ্রামের হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরের শাখারভ সরকার—এই দুই নতুন বিজেপি বিধায়কের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
- শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স প্রায় ৭৫ বছর হয়ে গেছে, তাই এই বয়সে তার আর ভোটে না দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
- ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর আসনটি ছেড়ে না দেওয়ার কারণ হিসেবে শুভেন্দু জানান, তিনি মমতাকে পুনরায় নির্বাচনে লড়ার কোনো সুযোগ দিতে চাননি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের জেরে। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নন্দীগ্রামের জয়ী বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরের শাখারভ সরকার বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বক্তব্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তিনি মমতার বয়স এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণে ভবানীপুর আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় আসন থেকেই জয়ী হওয়ার পর শুভেন্দু নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দিয়ে ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে দেন। এদিনের অনুষ্ঠানে সেই সিদ্ধান্তের পেছনের রাজনৈতিক কৌশল ও কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়েই শুভেন্দুর এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য সামনে আসে।
শুভেন্দু অধিকারী তার বক্তব্যে স্পষ্ট জানান, তিনি যদি ভবানীপুর আসনটি ছেড়ে দিতেন, তবে সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুনরায় উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ তৈরি হতো। নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সেই সুযোগ দিতে নারাজ ছিলেন বলেই তিনি আসনটি ধরে রেখেছেন বলে দাবি করেন। মমতার নাম সরাসরি উচ্চারণ না করে তিনি বলেন, যিনি তার কাছে দুবার পরাজিত হয়েছেন, তাকে আর নির্বাচনে লড়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে তার বয়স প্রায় ৭৫ বছর উল্লেখ করে এই বয়সে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন।
শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও দুই নেতার মধ্যকার এই রাজনৈতিক দ্বৈরথ থামেনি, বরং তা আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। রাজ্য রাজনীতির এই মেরুকরণ সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।