ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বই জমা দিতে দেরি হওয়ায় মাত্র ১ টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে এক শিক্ষার্থীকে। এই সামান্য অর্থ পরিশোধের জন্য তাকে ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিতে হয়েছে। ডিজিটাল যুগে এমন সেকেলে ও হয়রানিমূলক নিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জটিলতাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বই ফেরতে বিলম্বের জন্য নির্ধারিত জরিমানা মাত্র ১ টাকা, যা পরিশোধের জন্য শিক্ষার্থীকে সশরীরে সোনালী ব্যাংকের শাখায় যেতে হয়।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে বা মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশনের অভাব এবং সেকেলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বই জমা দিতে দেরি হওয়ায় মাত্র ১ টাকা জরিমানা পরিশোধের জন্য এক শিক্ষার্থীকে ব্যাংকে ছুটতে হয়েছে। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তির অভাব ও সেকেলে নিয়ম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর মূল্যবান সময় নষ্ট করে মাত্র ১ টাকা সংগ্রহের এই প্রক্রিয়াটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়নের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি নিয়ম অনুযায়ী, বই জমা দিতে দেরি হলে প্রতিদিনের জন্য নির্দিষ্ট হারে জরিমানা ধার্য করা হয়। তবে এই জরিমানা পরিশোধের জন্য কোনো ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম বা লাইব্রেরি কাউন্টারে সরাসরি অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে সোনালী ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় গিয়ে চালান বা রসিদের মাধ্যমে এই অর্থ জমা দিতে হয়। ফলে ১ টাকা জরিমানার বিপরীতে যাতায়াত খরচ ও সময়ের অপচয় অনেক বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের মতে, বর্তমান যুগে যখন সব ধরনের লেনদেন মোবাইল ব্যাংকিং বা অ্যাপের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এমন জটিল নিয়ম বজায় রাখা অযৌক্তিক। লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যমান আর্থিক নীতিমালা ও অডিট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তারা তাৎক্ষণিক জরিমানা গ্রহণের ক্ষমতা রাখে না। তবে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালুর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এই ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। কেবল লাইব্রেরি নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে এখনো সনাতন পদ্ধতির ব্যবহার শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা না গেলে শিক্ষার্থীদের এই হয়রানি অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।